প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশেহারায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। ডিম, সবজি, মাছ, মাংস কিংবা ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে থাকায় স্বস্তি মিলছে না। খুচরা পর্যায়ে এক ডজন ডিমের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। একাধিক সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে উঠেছে। কিছু সবজির কেজি ৮০ টাকার আশপাশে রয়েছে।
মাছ-মাংসের চড়া দাম এবং ব্রয়লার মুরগির বাড়তি দাম ভোক্তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। তাই সীমিত আয়ের মানুষের সংসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাটাই বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কেনার ফলে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেকেরই নাভিশ্বাস উঠছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ডিমের ডজন ১৫০, ব্রয়লারের কেজি ১৯০, পাঙাশ ২৩০ ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ১৪০-১৫০, বেগুন ১০০-১২০, গাজর ১২০, ঢ্যাঁড়স ৫০, করলা ৮০-১০০, কচুরমুখি ৭০, কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এই একই ডিম ১৩০-১৪০ টাকা ছিল। এক মাস আগে বিক্রি হয়েছিল ১২০-১৩০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গেসঙ্গে প্রতি কেজি সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়। গরুর মাংসের দাম হচ্ছে ৮০০-৮৫০ এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাওরান বাজারে ডিম কিনতে আসা মো. হাকিম বলেন, "মনে হচ্ছে বাজারে সকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বাজারের প্রতি একবারেই নজর দিচ্ছে না। বন্যা-বৃষ্টির অজুহাতে ডিমের দাম বাড়িয়ে অসহনীয় করা হয়েছে। বিক্রেতারা একজোট হয়ে প্রতিটি বাজারে একই দামে বিক্রি করছে। যৌক্তিক বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে কিনা তারও নজরদারি নেই।"
ডিম বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম জানান, "ডিমের দাম আমরা কেন বাড়াব। বরং আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দামে। তবে আমরা প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করে ৪ থেকে ৬ টাকা লাভ করি। কারণ খরচ তুলেই আমাদেরও বিক্রি করতে হয়।"
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, বাজারে ডিমের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এরপর দেশে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা গেছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরের ওপর।
এদিকে খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ কিছুটা কমেছে, যা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা। পাশাপাশি প্রতিকেজি বেগুন ১০০-১২০ টাকায়, গাজর ১২০, ঢ্যাঁড়স ৫০, করলা ৮০-১০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ঝিঙা ৮০-৮৫, পটোল ৬০, চাল কুমড়া ৫০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কচুরমুখি ৭০ এবং কাঁকরোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০-৯০০, পাবদা ৩৫০-৪০০, আকারভেদে রুই মাছ ৩০০-৫০০ ও ট্যাংরা মাছ প্রতিকেজি ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গেসাথে প্রতিকেজি ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকায়, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকায়, বাইন ৬০০-৮০০ টাকায়, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকায়, চাষের কই ৩০০ টাকায়, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান বলেন, "সবজির দাম শুনলেই এখন অবাক হতে হয়। একেকটা সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে। মাছ-মাংসের দামও অনেক বেড়েছে। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলাতে পারছি না। আগে যে টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় অল্প কিছু পণ্য কিনতে হচ্ছে। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন