প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ (বাপশিপ) এর ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার নবগঠিত কমিটির অভিষেক এবং বিদায় ও বরণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রকৌশলী জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং উপাধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাপশিপ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নূরুল ইসলাম (নুরু)। উপস্থিত ছিলেন বাপশিপ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ খালেদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রহিদুল আলম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাপশিপ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা শাখার বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি এবং সংগঠনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সূচনা বক্তব্যে বাপশিপ ঢাকা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রহিদুল আলম নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে সকল অতিথিকে স্বাগত জানান এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেন। একইসঙ্গে ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সদ্য যোগদানকারী ৪৭তম বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা) থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পরে বাপশিপ ঢাকা শাখার সাবেক নেতৃবৃন্দ তাদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। সংগঠনের প্রতি তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেব বিদায়ী সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ৪৭তম বিসিএস (কারিগরি শিক্ষা) থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত দুইজন ইন্সট্রাক্টরও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ে সহকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মানসমন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগঠনের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নতুন কমিটির সফলতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ প্রকৌশলী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, শিক্ষক সংগঠনগুলোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক পরিবেশ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপাধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ব্যক্তি ও মতের ভিন্নতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষা ও শিক্ষক কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বাপশিপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নূরুল ইসলাম (নুরু) বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ে শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষক পরিষদকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি সংগঠনের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে শিক্ষক হিসেবে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পেশাজীবী সমাজকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
বাপশিপ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ খালেদ হোসেন তার বক্তব্যে দীর্ঘদিনের ডিপ্লোমা-বিএসসি সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি।
"অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাপশিপ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বাপশিপ ঢাকা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম, অতীতের অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের অধিকার সংরক্ষণ, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।"
পরিশেষে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোহাম্মদ রহিদুল আলম নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে সকল অতিথি, শিক্ষক ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষক সমাজের কল্যাণ, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এরপর তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটি শিক্ষক সমাজের অধিকার রক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। একইসাথে শিক্ষক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন