প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আইনি জটিলতার কারণে প্রায় ৮৭ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে আছে।
তিনি জানান, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিচারাধীন মামলা এবং নানা প্রশাসনিক জটিলতার জন্য ৪৭ হাজার শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। এ কারণে আমরা সবমিলিয়ে প্রায় ৮৭ হাজার পদে নিয়োগ-পদোন্নতি দিতে পারছি না। এটা এখন আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার ঢাকায় ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে, যার কারণে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আন্তর্বর্তী সরকার তাড়াহুড়ো করে প্রাথমিকে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের তৎপরতা চালায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না কেন তারা এত তাড়াহুড়ো করে রাতারাতি শিক্ষকদের নির্বাচন করেছে। ফলে তাদের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আপনারা একদিকে পর্যালোচনা করছেন, অন্যদিকে আমরা তাদের প্রশিক্ষণে পাঠাচ্ছি এবং দুই বছরের জন্য তাদের প্রো-কন্ট্রাক্টে নিয়োগ দিচ্ছি।
শিক্ষাক্রমে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে এহছানুল হক মিলন জানান, শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে পাঠদানের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। সরকারের এই লক্ষ্যে শিক্ষায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার রোধে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ এবং মিড ডে মিলসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্যানিটেশন সমস্যার সমাধানের জন্যও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে, যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ। তবে আমাদের লার্নিং আউটকাম বা শিক্ষার ফল এখনও সন্তোষজনক নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীসহ শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন