প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জ থেকে পিকআপ নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাই করে নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে যাওয়ার অভিনব কৌশলে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে দুই বোনের ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই চক্রের খোঁজ পাওয়ার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ৩১ মে (রোববার) ভোরে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। তারা মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে তাদের বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা চাপাতির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি ট্রলি, একটি হ্যান্ডব্যাগ এবং অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে পুলিশ এই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আনোয়ার হোসেন ও জুয়েল ওরফে আরিফ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বলেন, ছিনতাইকারী এই চক্রের সদস্যরা আগে মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন। তাদের এলাকার রাস্তাঘাট এবং সব বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে। তবে প্রায় ছয় মাস ধরে তারা নারায়ণগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তারা সেখান থেকে পিকআপ নিয়ে মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাই করে আবার ফিরে যেতেন। ৩১ মে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা আনোয়ার ও জুয়েল এ বিষয়ে বিষয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন। তথ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপ এবং চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এবং তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
তবে ছিনতাই হয়ে যাওয়া একটি ট্রলি এবং একটি মুঠোফোন এখনো উদ্ধার করা যায়নি, এ তথ্য জানায় পুলিশ। তারা বলছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সেগুলো উদ্ধার সম্ভব হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে এডিসি ফজলুল করিম বলেন, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক এবং মালিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের উপর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মাদক মামলাগুলো, একটি ডাকাতি মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে এসে একই কৌশলে অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তারা রাত দুইটার পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে পিকআপ নিয়ে বের হতেন। তারপর মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাইয়ের পর নারায়ণগঞ্জে ফিরে যেতেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন