প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে সাফল্য অর্জনের জন্য লিওনেল মেসিদের আরেকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় নামছে আর্জেন্টিনা। তবে, আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে স্পেনকে হারানোর জন্য তাদের ভাঙতে হবে বহুবছর ধরে চলে আসা দুটি অশুভ পরিসংখ্যান, যা ফাইনালকে আরো কঠিন করে তুলেছে।
প্রথমটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থান। টুর্নামেন্টের শুরুতে আর্জেন্টিনা ছিল র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, তবে টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা সেই স্থান হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর তারা আবারও অবস্থান ফিরে পেয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি, যা গত ছয় দশকের বেশি সময় ধরে কোনো দলই অর্জন করতে পারেনি।
বিশ্বকাপ জিততে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলের 'অভিশাপ' ভাঙতে হবে আর্জেন্টিনাকে। ফাইনালে ওঠার পরে আর্জেন্টিনা আবারও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। তারা ফ্রান্সকে সরিয়ে এক নম্বরে স্থাপন হয়েছে, আর স্পেন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম দেখায় এটি সুখবর মনে হলেও এর সাথে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান।
১৯৯৩ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে এক নম্বর অবস্থানে থাকা কোনো দলই বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম হয়নি। এই ধারার শুরু ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। সে সময় জার্মানি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। এরপর থেকে আর কোনো দল এক নম্বর র্যাঙ্কিং নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ পায়নি।
আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে আরও একটি বড় বাধা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে, তাদের ৬৪ বছর ধরে চলে আসা ধারা ভাঙতে হবে। সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েছিল পেলের নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল। তারা ১৯৫৮ সালে সুইডেন এবং ১৯৬২ সালে চিলি বিশ্বকাপ জিতে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এর আগে কেবল ইতালিই ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে এই সাফল্য অর্জন করেছিল।
১৯৬২ সালের পর থেকে প্রতিটি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল শিরোপা ধরে রাখার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে। এই কারণেই সময়ের সাথে সাথে এটি 'ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের অভিশাপ' নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টিনার আগে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালের আসরে ফ্রান্স এই অভিশাপ ভঙ্গের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু ফ্রান্সের কাছে ব্রাজিল এবং গতবার আর্জেন্টিনার কাছে ফ্রান্স হেরে যাওয়ায় অভিশাপ এখনো অটুট রয়েছে।
যদি আর্জেন্টিনা স্পেনকে পরাজিত করতে পারে, তবে তারা শুধু একটি আরও বিশ্বকাপ ট্রফি জিতবে না; চারটি বিশ্বকাপ শিরোপা নিয়ে জার্মানি ও ইতালির সমকক্ষও হবে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের আধুনিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুটি অশুভ ধারারও অবসান ঘটাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন