প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ একটি পুলিশের পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ওঠেছে। এই অভিযোগের পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে নাম ওঠা পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি আদেশের মাধ্যমে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানান।
কিশোরী বলেন যে, তার মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন, যা কারণে তিনি মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে বিশেষভাবে ডেকে বিভিন্ন সময় বাসার তিনতলায় গিয়ে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা গুছানোর কাজ করানোর কথা বলতেন। পরে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ জানালে কিশোরী। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হতো। এছাড়াও তিনি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিতেন।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী কিশোরী তার মাকে এই বিষয়ে জানান। পরবর্তীতে কিশোরীর মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার দাবি করা হয় ভুক্তভোগীর পরিবারের। এরপর থেকে তারা প্রায় চার মাস ধরে আতঙ্কের মধ্যে আত্মগোপনে রয়েছেন।
যদিও পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, এক এসআইকে বদলির কারণে কাজের মেয়েটি ভুয়া একটি ভিডিও তৈরি করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার উদ্দেশ্য সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা। তিনি আরও দাবি করেন, "আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কাজ আমি করিনি।"
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানিয়েছেন যে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরই তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন গ্রহণ করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, এর আগেও এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল, তবে তখন সার্কেলের এএসপিকে মাধ্যমে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ছে, তার পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন