প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও চলাচলের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠার কারণে ইরান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’র একাধিক অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর পক্ষ থেকে এই আকস্মিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে, এক্স থেকে তাসনিম নিউজের ইংরেজি, ফারসি ও আরবি ভাষার প্রধান অ্যাকাউন্টগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে যদিএ এই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়, তখন এক্স ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেখাচ্ছে, ‘অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। এক্স-এর নীতি ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী অ্যাকাউন্টগুলোকে স্থগিত করা হয়।’
যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ঠিক কোন নির্দিষ্ট নীতি লঙ্ঘনের কারণে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে খোলাসা করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং স্বতন্ত্র নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ভিডিওটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চলাচলের গোপনীয় রুট এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাব্যবস্থার বেশ কিছু সংবেদনশীল ত্রুটি ও দুর্বলতার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ব্যবহার করার মতো চরম ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বহুদিন ধরেই বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর ইরান-সংক্রান্ত বিভিন্ন হুমকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।
তাসনিম নিউজের বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থার ফলে তেহরান সরকারের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উপস্থিতি হারিয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই গণমাধ্যমটি নিজেদেরকে পশ্চিমা গণমাধ্যমের একপাক্ষিক বর্ণনার বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে পশ্চিমারা মনে করে, এই সংবাদ সংস্থার সঙ্গে ইরানের শক্তিশালী সামরিক সংস্থা ‘ইসলামিক রেভোলিউশনरी গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে ২০১৯ সালে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী এক্স কর্তৃপক্ষ তাসনিম নিউজসহ একাধিক ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যাকাউন্টের ভেরিফায়েড ব্যাজ বা টিকচিহ্ন সরিয়ে নিয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ইরানি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপটি কার্যকর করা হচ্ছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো সময় যখন ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তখন তেহরানের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেন্সরশিপ বলে তীব্র সমালোচনা করা হয়। অতীতে তেহরান বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রেও পশ্চিমের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার হরণের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে এটাও একটি বাস্তবতা যে, ২০০৯ সাল থেকে ইরানের ভেতরে সাধারণ নাগরিকদের জন্য এক্স, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে বর্তমানে কোটি কোটি ইরানি নাগরিক ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারের এই ব্লকগুলো এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
স্থগিত হওয়া এই অ্যাকাউন্টগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে কিনা অথবা পর্যালোচনার পর পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এক্স-এর নিরাপত্তা দল এখনো কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন