প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত হয়েছে।
এছাড়া, মালয়েশিয়া আরসিইপিতে (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগদান ও আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এই বিষয়ে অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।
এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়ায় তাঁর প্রথম সফরও বটে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নেওয়ার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
একই সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি দলিল বিনিময়ও প্রত্যক্ষ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রত্যাশার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
দুই দেশ চুক্তিটি ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও তারা জোর দেন।
উভয় নেতা উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী।
এছাড়া, তারা উভয় দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকেও স্বাগত জানান।
টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দরে লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা সম্মত হন।
বাংলাদেশের আরসিইপি আবেদনে মালয়েশিয়ার সমর্থন
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের আরসিইপিতে যোগদানে আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়া সমর্থন জানিয়েছে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও এই অঞ্চলে কৌশলগত ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়ে জানায়, ভবিষ্যতে আরসিইপি-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে আরসিইপি সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
আসিয়ানের সঙ্গে সমর্থন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং আসিয়ানের কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মালয়েশিয়ার গঠনমূলক সমর্থনের আশ্বাস দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন