প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
'সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ করে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণ সম্ভব নয়' এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাজপথে ছিল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ১৯:০৮ টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ভ্যানগার্ড মিলনায়তনে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা ছিলেন কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজুসহ অনেকে।
খালেকুজ্জামান আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে ভাষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের মৌলিক ভূমিকা রাষ্ট্রীয় পরিচয় গঠন করেছে।
তাহলে রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা করা সম্ভব নয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান অবিশ্বাস্য।
তিনি যুক্ত করেন, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক এবং গানের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধেও দুই কবি সোচ্চার ছিলেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে নজরুল ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় ব্রিটিশবিরোধী লেখালেখি করতেন। তার 'ভাঙার গান' নিষিদ্ধ করেছিল ব্রিটিশ সরকার।
খালেকুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলেও জনগণ এখনো শোষণ থেকে মুক্ত হয়নি। স্বাধীনতার পরেও দেশে পুঁজিবাদী শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা এবং লুণ্ঠন অব্যাহত রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও শাসনব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান গেয়েছিলেন। তবে বর্তমানে মাজারে হামলা, ভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ, নারীদের ওপর হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় মব সন্ত্রাসীদের উত্সাহিত করছে।
‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে’ এমন অভিযোগ করে বাসদ উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, এবং বাংলাদেশের ভিত্তি। শোষণমুক্ত ও সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ায় ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এই কারণে মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
সভা থেকে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরু ও শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা আবৃত্তি ও গণসংগীত পরিবেশন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন