প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারমাণবিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এটি নতুন পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে দূরপাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে স্বল্প পাল্লার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের উপরে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষত চীন বা রাশিয়া মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের কথা মাথায় রেখেই নতুন কৌশল সাজানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজে এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন পারমাণবিক ডকট্রিনে এটিকে অন্যতম বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে পরিগণিত করা হচ্ছে। অনেকের উদ্বেগ, কৌশলগত এ পরিবর্তন পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কিত ঝুঁকিকে অনেক বেশি বাড়িয়ে তুলবে। এই কৌশল পর্যালোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পেন্টাগনের নীতিপ্রধান এলব্রিজ কোলবি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর উদ্দেশ্য রাশিয়া বা চীন দ্বারা মিত্রদেশগুলোর আক্রান্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। এর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরো বিস্তৃত সামরিক বিকল্প প্রদানের কথাও বলা হয়েছে। পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনবিসিতে যোগাযোগ করে বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, আমাদের একটি নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক বিকল্প প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য নতুন কৌশলটি কোনও সংঘাতের সময় ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সীমিত করবে না। বরং এটি প্রেসিডেন্টকে বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প দেওয়ার মাধ্যমে তার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করবে। যার ফলে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।’ আরেকজন কর্মকর্তা জানান, সংশোধিত সামরিক নীতি পারমাণবিক সংকটের সময়ে ট্রাম্পকে ‘হয় সব, না হয় কিছুই নয়’ ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বাধ্য করবে না বরং তার পছন্দের সুযোগ অনেক বৃদ্ধি করবে। এলব্রিজ কোলবি দীর্ঘদিন যাবত যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, আমেরিকার পারমাণবিক নীতি প্রতিপক্ষের সব পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসের হুমকির ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল। এর পরিবর্তে তিনি কৌশলগত পারমাণবিক অপশনের সমর্থক, যা হচ্ছে আকারে ছোট ও কম দূরত্বের ওয়ারহেড, যা বড় শহর ধ্বংস না করে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যগুলোর জন্য তৈরি। এ পদ্ধতির সমর্থনে একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি যদি সত্যিই ‘বর্ধিত প্রতিরোধকে বিশ্বাসযোগ্য করতে চান, তবে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এমন পারমাণবিক সক্ষমতা সরবরাহ করতে হবে, যা সাধারণ বুদ্ধির আলোকে বাস্তবসম্মত।’ সেই কর্মকর্তা আরো যোগ করেন, ‘নইলে আপনি আমাদের নেতৃত্বকে একটি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছেন, যা প্রতিপক্ষ বিশ্বাসযোগ্য মনে করবে না। আর তা পারমাণবিক প্রতিরোধের জন্য মোটেও ভাল ফল নিয়ে আসবে না।’ এই প্রস্তাব মার্কিন পারমাণবিক নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার উসকে দিয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, আরো নমনীয় বা বহুমুখী বিকল্প পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকরা উল্টো আশঙ্কা করছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সামরিক পরিকল্পনায় কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের বড় আকারে অন্তর্ভুক্তি ব্যবহার সীমা কমিয়ে দিতে পারে। কারণ, এর ফলে প্রথাগত যুদ্ধের ক্ষেত্রে এসব অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও বাস্তবসম্মত বলে মনে হতে পারে। এটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারে। এই প্রস্তাব বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। পর্যালোচনা সম্পর্কে অবগত একজন ঊর্ধ্বতন সংসদীয় সহকারী এনবিসিকে বলেন, ‘আমাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুনরায় শক্তিশালী করার যে অবস্থান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্ত করেছেন, তা এমন কিছু অসংগতিপূর্ণ গবেষণা বা সমীক্ষার সাথে একেবারে মিলছে না।’ সেই সহকারী দাবি করেছেন, ‘তিনি স্পষ্টতই আরও বিকল্প ও সক্ষমতা চান, কম নয়। এই সমীক্ষাটি একেবারেই দুর্বল এবং কার্যকর নয়।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। পারমাণবিক বোমা হামলার পর জাপানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পাতা বন্ধ হয়েছিল। এবং তারপর থেকে বিশ্বের কোথাও পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হয়নি। তবে জাপানে যখন পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন