প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জোড়া গোলের পর ভিনিসিয়ুসের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আলো ছড়ালেও ব্রাজিলের জার্সিতে যেতে পারছিলেন না। এই কারণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামের পাশে জুটেছিল অপবাদ—যতটা না রিয়ালের তার থেকে বহুদূরে ব্রাজিলের।
কিন্তু সেই কালিমা লিপ্ত ভিনিই এবার বিশ্বকাপে উড়ছে ব্রাজিলের পতাকায়। তিনি হাসলেই হাসছে ব্রাজিলও। আজ মায়ামি স্টেডিয়ামে তাই ঘটেছে। তার জোড়া গোলে সেলেসাওরা প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের হয়ে অন্য গোলটি করেছেন ম্যাথিউস কুনহা। এই জয়ের মাধ্যমে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে নিজের জায়গা নিশ্চিত করল ব্রাজিল।
বিশ্বকাপে ভিনির দুর্দান্ত ছন্দ কেমন, সেটা একটি পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তিন ম্যাচে তিনি ৪ গোল করেছেন।
টানা ৩ ম্যাচে গোল-পাওয়া ভিনিই, সেলেসাওদের হয়ে আগের ৪৯ ম্যাচে মাত্র ৯ গোল করেছিলেন।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ভিনি প্রথম গোলের সুবর্ণ সুযোগটি মিস করতে পারেননি। মুখের সামনে খাবার এসে পড়লে তিনি সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ম্যাচের ৭ মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়ে সহজেই স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার।
অ্যাঙ্গাস গানের কাছে কিছু করারই হয়নি।
কথা বলার মতো কিছু ছিল না, কারণ সতীর্থ স্কট ম্যাককেনা একটি শিশুতোষ ভুল করে ফেলেন। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রায়ানের পায়ের মধ্যে বলটি মারেন। সেই বল ডি বক্সে আনমার্কড অবস্থায় ভিনিসিয়ুস পান। সহজেই গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাসকে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এভাবে এবারের বিশ্বকাপে তিনি টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করলেন।
২২ মিনিটে আর একটি গোল করেছিলেন ভিনি। গোল করার পর কর্নারের ফ্ল্যাগ হাতে সাম্বা ড্যান্সে মাতলেন তিনি। তবে নাচ শেষ করতেই শুনতে পেলেন যে তার দ্বিতীয় গোলটি বাতিল হতে পারে। ভিএআরের পর রেফারি সেই সিদ্ধান্তটি নেয়। মনিটরে দেখে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল হলো। এতে করে তার আনন্দ মাটি হয়ে যায়। বল পাওয়ার আগে ভিনির পা সামনে থাকলে জ্যাক হেনড্রি ভারসাম্য হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগান। কিন্তু ভিএআরে সেটাকেই ফাউল নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে বিতর্কও থেকেই গেল।
বিরতিতে যাওয়ার আগে ব্রাজিলের লিড বাড়ানোর সুযোগ ছিল। ভিনির পাস থেকে বলকে জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন ম্যাথিউস কুনহা। কিন্তু তার শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ের মাধ্যমে গোলরক্ষকের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।
যোগ করা সময়ে অবশ্য ব্রাজিল ২-০ লিড নিয়েছে। এবারের গোলের নায়ক আবারও ভিনি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সতীর্থ ব্রুনো গুইমারেসের ক্রসে শুধুমাত্র খালি জালে হেড নেন ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
অন্যদিকে যোগ করা সময়ে ষষ্ঠ মিনিটে অবিশ্বাস্যভাবে গোল মিস করেন রায়ান। গোলরক্ষককে একা পেয়েও সে বল জালে জড়াতে পারেনি।
বিরতির পর স্কটল্যান্ড ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায়। তবে ৪৮ মিনিটে নেওয়া স্কট ম্যাকটমিনির হেড সরাসরি গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের হাতে চলে যায়।
অন্যদিকে ৫১ মিনিটে ভিনির হ্যাটট্রিকের দারুণ সুযোগ আসে। তবে বলটি ঠিকমতো প্লেসমেন্ট করতে না পারায় গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস তাকে সেভ করে। ৬০ মিনিটে অবশ্য কুনহা তাকে ঠিকই পরাস্ত করেন। ব্রাজিলের তৃতীয় গোল করার পর তার ট্রেডমার্ক ড্যান্স দেখান। সার্ফিংয়ের মতো।
৬৪ মিনিটে ম্যাকটমিনি আরেকবার হতাশ হলেন। এবার দারুণ এক হেড নিয়ে গোলরক্ষক অ্যালিসনকে পরাস্ত করতে পারেননি। ৭৬ মিনিটে নেইমারের মাঠে নামার অপেক্ষা ফুরালো। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর আজ প্রথমবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন সুপারস্টার। সান্তোস ফরোয়ার্ড মাঠে নামতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো মায়ামি স্টেডিয়াম।
৭৮ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে ভিনির প্রথম হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসে। কিন্তু তার শটে বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস। আবার ৮১ মিনিটে তিনি জটলার মধ্যে থেকে পাটা ঠিকমতো লাগালেও হ্যাটট্রিকটি পেতে পারতেন।
বিপরীতে, শেষ মুহূর্তে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। তবে গোলরক্ষক বেকার দেওয়াল টপকাতে ব্যর্থ হন। এতে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
আজকের জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সমান পয়েন্টে মরক্কোর হলেও তাদের গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। অপর দিকে স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট ৩। অন্যদিকে কোনো পয়েন্টই পায়নি হাইতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন