প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরিষাবাড়ীর রাধানগর সানসেট পয়েন্টে দর্শনার্থীরা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরে গড়ে উঠা রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এজন্য এখানে যমুনার মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় ক্যাটালগ দেখিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে এবং এজন্য অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে, যা তাদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুসারে, সানসেট পয়েন্টের কিছু ফাস্টফুডের দোকানে কম্পিউটারে তৈরি আকর্ষণীয় খাবারের ছবি দেখিয়ে অর্ডার নেওয়া হলেও, পরিবেশন করা হয় নিম্নমানের খাবার। অথচ এর জন্য তুলনামূলক বেশি মূল্য দিতে হয়। বিশেষত শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীদের চাপ বেড়ে গেলে খাবারের মান আরো নিম্নমুখী হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলে অনেক সময় ক্রেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন কিছু দর্শনার্থী।
দর্শনার্থী জাহাঙ্গীর আলম, শাহীন আলম সরকার, লাকী আক্তার এবং স্বপন আকন্দ বলেন, তারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে ক্যাটালগ দেখে যে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন, তা পরিবেশন করা হয়েছে তার সঙ্গে কোনো মিল নেই। খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের, কিন্তু নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি মূল্য।
একজন শিক্ষার্থী সানজিদা ছোলাইমান আওকী এবং সাদিয়া ছোলাইমান রেইকী জানিয়েছেন, ক্যাটালগে আকর্ষণীয় জুসের ছবি দেখানো হয়, কিন্তু যে পানীয় পরিবেশন করা হয়েছে, তাতে লেবুর স্বাদটাই নেই। বরফ এবং বিট লবণের মিশ্রণ করে সাধারণ মানের পানীয় আহারের জন্য বেশি দামের দাবি করা হয়েছে।
ওষুধ ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম শান্ত, আনিছুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন ও আবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ফুচকা, চটপটি ও অন্যান্য ফাস্টফুডের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং স্বাদহীন। অভিযোগ জানাতে গেলে বিক্রেতারা অনেক সময় গুরুত্ব দেন না, বরং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ফলে অনেক সময় দর্শনার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে চুপ থাকেন।
এদিকে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, যমুনা নদীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ভাসমান রেস্টুরেন্ট কার্যক্রম চলছে। তাদের উদ্বেগ, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকায় সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ভুক্তভোগী দর্শনার্থীরা পর্যটন সম্ভাবনাময় এ স্থানটির সুনাম রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাবারের মান ও মূল্য তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন