প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ৮ দফা দাবিতে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির মধ্যে থাকা অবস্থায়, দলের ৩৪ জন সংসদ সদস্য তিনটি দেশে সফরে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ৩৪ এমপির অন্তত ২৬ জন ১৭ দিনের এই সফরে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে গেছেন। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিরোধী দলের লং মার্চের সময় জামায়াতের সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সফর পূর্বনির্ধারিত ছিল। এমপিদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দলের পরিকল্পনার অংশ।
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফররত ৩৪ জন এমপির মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ জন তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গেছেন। সফরের দলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক এমপি মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানও রয়েছেন। লেখক জিয়াউল হকও সফরসঙ্গী।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুই দফায় সফরকারী দলের সদস্যরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তারা প্রথম তিন দিন অবস্থান করেন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চলে যান। গত শনিবার তারা ফিলিপাইনে পৌঁছান। সফর শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন। বাহরাইনে যাত্রাবিরতির পরিকল্পনাও রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের দেশে ফেরার কথা।
মালয়েশিয়ায় জামায়াতের এমপিদের সঙ্গে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মাসজলি মালিকের সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিক–বিষয়ক ব্যুরোর প্রধান। ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজ (আইএআইএস) মালয়েশিয়ার সঙ্গেও তিনি যুক্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে জামায়াতের এমপিদের আতিথ্য দেওয়ার কথা জানান মাসজলি মালিক। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বজুড়ে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু ভাবনা তুলে ধরেছেন। বৈঠকে অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন সারদারের ‘পোস্ট-নরমাল টাইমস’ ধারণা নিয়েও আলোচনা হয়। জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, সততা, জবাবদিহি এবং জনগণের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের সূত্র অনুযায়ী, মাসজলি মালিক নিজ উদ্যোগে এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম) সহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন।
সিঙ্গাপুরে সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ
১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের এমপিরা সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। সেখানে তারা নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। ২০২৫ সালের গ্লোবাল র্যাকিং অব একাডেমিক সাবজেক্টসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের সেরা হিসেবে স্থান পেয়েছে।
দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সিম্পোজিয়ামেও অংশ নেয়। সেখানে সিঙ্গাপুরের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।
সিঙ্গাপুর সফর শেষে শনিবার তারা ফিলিপিনসে পৌঁছান। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক এবং দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইন থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবে সফরকারীরা। ওমরাহ পালনের আগে বাহরাইনে যাত্রাবিরতির সময় বিমানবন্দরের আশপাশের কিছু স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সৌদিতে ওমরা শেষে ৩০ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরবেন।
‘প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি’
জামায়াতের সফরকারী দলের সদস্য ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, এমপিরা জামায়াতের আমিরের অনুমতি নিয়ে বিদেশ সফরে এসেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জানান, সংসদ সদস্যদের অনেকেই আগে বিদেশ সফরের সুযোগ পাননি। উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়গুলো বোঝার জন্যই এই সফর।
সফরকারী দলের সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, এই সফরের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। তবে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কারণে তা পিছিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের অনেকেই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং অনেকেরই দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করাই সফরের উদ্দেশ্য। তিনি সফরটিকে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সফরকারী সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর নয়, তবে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। পূর্বপরিচিতি ও সাংগঠনিক যোগাযোগের সূত্র ধরে এসব সাক্ষাৎ হয়েছে বলে তারা জানান।
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে এমপিরা বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বিরোধী দল, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ, সংসদীয় আচরণ, এমপিদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা, সততা, জবাবদিহি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
‘পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা’
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীকে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থানে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতাদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমান বিদেশ সফর সেই পরিকল্পনার অংশ।
সূত্রগুলো জানায়, শুধু এই সফর নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দলের সদস্যদের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সফরে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্ব ও ছাত্রসংগঠনের নেতারাও অংশ নেবেন। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে এসব সফরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সেলের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এর আগেও দলের অনেক সদস্য বিদেশে গেছেন। এই সফর তারই ধারাবাহিকতা। তবে এবার বিশেষভাবে এমপিদের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন