০৪:৪০ পি.এম
মানুষ শান্তি প্রিয়। তাই শান্তির অনুসন্ধানে মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরে, কেউ খোঁজে ধন-সম্পদে, কেউ খ্যাতির শিখরে, আবার কেউ সম্পর্কের উষ্ণতায় আশ্রয় খুঁজে। কিন্তু প্রকৃত মুমিনের হৃদয় শান্তি পায় এক ভিন্ন জগতে-মসজিদে পবিত্র পরিবেশে। যেখানে দুনিয়ার কোলাহল স্তব্ধ হয়ে যায়, আর বান্দা রবের সান্নিধ্যে নিজেকে সঁপে দেয়।
কেননা, মসজিদ শুধুমাত্র ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এটি ঈমানের কেন্দ্র, আত্মশুদ্ধির পাঠশালা এবং আল্লাহর রহমতের এক অবিরাম উৎস। যারা এই ঘরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে, তারা আসলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা, যাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে আছে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদসমূহ আর সবচেয়ে খারাপ জায়গা হলো বাজারসমূহ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪১৪)
অতএব, আল্লাহর নেক বান্দাকে মসজিদ সব সময় আকর্ষণ করে।
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল
তারা প্রতি মুহূর্তে মসজিদে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। যখন মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার বলে মহান আল্লাহর ঘরের দিকে আহবান করে, তারা সেই সময়ের অপেক্ষা করে। তারা মসজিদে সুখ খুঁজে পায়। আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথে তাদের মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে, যা তাদের ইবাদতের একনিষ্ঠতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মহান আল্লাহ এই বান্দাদের কঠিন কিয়ামতের দিনে বিশেষ মর্যাদা দান করবেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত জনকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।... (তাদের মধ্যে অন্যতম হলো) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬০)
এছাড়াও, যারা মসজিদ নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন, মহান আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ অনুরূপভাবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৭৩৬)
শুধু এটাই নয়, মহান আল্লাহর বান্দারা প্রতিদিন যতবার মহান রবের ইবাদত করার জন্য মসজিদে যান, মহান আল্লাহ প্রতিবারই তাদের জন্য জান্নাতে মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। মহান আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের এভাবেই সম্মান দান করে থাকেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির ব্যবস্থা করে রাখেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬২)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (অজু করে) পরে ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) যায়, তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে পাপ সামান্য হয়ে যায় এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪০৭)
আরও পড়ুন: স্কুলে বুলিং ঠেকাতে ৯ বছর বয়সীদেরও বেত্রাঘাতের অনুমতি দিল সিঙ্গাপুর
আমাদের সকলের উচিত আল্লাহর ঘর মসজিদকে ভালোবাসা। সাধ্যমতো মসজিদের খিদমত করা। নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়া। সম্ভব হলে আগে আগে মসজিদে গিয়ে কিছুক্ষণ কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল ইবাদত ইত্যাদি করা। এতে মহান আল্লাহ ভীষণ খুশি হন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদে নামাজ ও জিকিরে রত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার প্রতি এতটা আনন্দিত হন, যেমন প্রবাসী ব্যক্তি যখন তার পরিবারে ফিরে আসে, তাদের কাছে ফিরে এলে যে আনন্দ পায়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৮০০)
মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। এটি এমন এক ভালোবাসা, যা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে, হৃদয়কে আলোকিত করে এবং জীবনে প্রশান্তি ও বরকত এনে দেয়। তাই আমাদের উচিত শুধু নামাজ পড়ার জন্য নয়, বরং হৃদয়ের টানে এবং ভালোবাসার আকর্ষণে মসজিদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক রাখতে। যে হৃদয় মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সেই হৃদয় কখনো পথভ্রষ্ট হয় না। আসুন, আমরা সবাই মসজিদমুখী হই, মসজিদকে ভালোবাসি এবং সেই সৌভাগ্যবানদের দলে শামিল হওয়ার চেষ্টা করি, যারা কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় লাভ করবে। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন