ঢাকা শুক্রবার, ০৮ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শুক্রবার, ০৮ই মে, ২০২৬ইং ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩২বাং

মসজিদ শান্তি ও সুখের ঠিকানা


মসজিদ শান্তি ও সুখের ঠিকানা

মানুষ শান্তি প্রিয়। তাই শান্তির অনুসন্ধানে মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরে, কেউ খোঁজে ধন-সম্পদে, কেউ খ্যাতির শিখরে, আবার কেউ সম্পর্কের উষ্ণতায় আশ্রয় খুঁজে। কিন্তু প্রকৃত মুমিনের হৃদয় শান্তি পায় এক ভিন্ন জগতে-মসজিদে পবিত্র পরিবেশে। যেখানে দুনিয়ার কোলাহল স্তব্ধ হয়ে যায়, আর বান্দা রবের সান্নিধ্যে নিজেকে সঁপে দেয়।

কেননা, মসজিদ শুধুমাত্র ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এটি ঈমানের কেন্দ্র, আত্মশুদ্ধির পাঠশালা এবং আল্লাহর রহমতের এক অবিরাম উৎস। যারা এই ঘরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে, তারা আসলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা, যাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে আছে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদসমূহ আর সবচেয়ে খারাপ জায়গা হলো বাজারসমূহ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪১৪)

অতএব, আল্লাহর নেক বান্দাকে মসজিদ সব সময় আকর্ষণ করে।

আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

তারা প্রতি মুহূর্তে মসজিদে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। যখন মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার বলে মহান আল্লাহর ঘরের দিকে আহবান করে, তারা সেই সময়ের অপেক্ষা করে। তারা মসজিদে সুখ খুঁজে পায়। আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথে তাদের মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে, যা তাদের ইবাদতের একনিষ্ঠতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মহান আল্লাহ এই বান্দাদের কঠিন কিয়ামতের দিনে বিশেষ মর্যাদা দান করবেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত জনকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।... (তাদের মধ্যে অন্যতম হলো) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬০)

এছাড়াও, যারা মসজিদ নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন, মহান আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ অনুরূপভাবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৭৩৬)

শুধু এটাই নয়, মহান আল্লাহর বান্দারা প্রতিদিন যতবার মহান রবের ইবাদত করার জন্য মসজিদে যান, মহান আল্লাহ প্রতিবারই তাদের জন্য জান্নাতে মেহমানদারির ব্যবস্থা করেন। মহান আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের এভাবেই সম্মান দান করে থাকেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির ব্যবস্থা করে রাখেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৬২)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (অজু করে) পরে ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) যায়, তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে পাপ সামান্য হয়ে যায় এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪০৭)

আরও পড়ুন: স্কুলে বুলিং ঠেকাতে ৯ বছর বয়সীদেরও বেত্রাঘাতের অনুমতি দিল সিঙ্গাপুর

আমাদের সকলের উচিত আল্লাহর ঘর মসজিদকে ভালোবাসা। সাধ্যমতো মসজিদের খিদমত করা। নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়া। সম্ভব হলে আগে আগে মসজিদে গিয়ে কিছুক্ষণ কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল ইবাদত ইত্যাদি করা। এতে মহান আল্লাহ ভীষণ খুশি হন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদে নামাজ ও জিকিরে রত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার প্রতি এতটা আনন্দিত হন, যেমন প্রবাসী ব্যক্তি যখন তার পরিবারে ফিরে আসে, তাদের কাছে ফিরে এলে যে আনন্দ পায়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৮০০)

মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। এটি এমন এক ভালোবাসা, যা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে, হৃদয়কে আলোকিত করে এবং জীবনে প্রশান্তি ও বরকত এনে দেয়। তাই আমাদের উচিত শুধু নামাজ পড়ার জন্য নয়, বরং হৃদয়ের টানে এবং ভালোবাসার আকর্ষণে মসজিদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক রাখতে। যে হৃদয় মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, সেই হৃদয় কখনো পথভ্রষ্ট হয় না। আসুন, আমরা সবাই মসজিদমুখী হই, মসজিদকে ভালোবাসি এবং সেই সৌভাগ্যবানদের দলে শামিল হওয়ার চেষ্টা করি, যারা কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় লাভ করবে। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে হামলা, আহত তিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে হামলা, আহত তিন

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) সদস্যদের উপর দুর্বৃত্তদের হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। এটি ঘটে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরের দিকে মাসদাইরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায়, যখন র‌্যাব একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল।

এ সময় তিন জন র‌্যাব সদস্যকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মাহী এবং ইব্রাহীম নামে র‌্যাবের দুই সদস্যকে সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, গুরুতর আহত এস আই নজিবুলকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে র‌্যাব-১১ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে সদর জেনারেল হাসপাতালে আহতদের দেখতে গেলেন। তিনি বলেন, ঘটনা স্থলে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে, মুঠোফোনে এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, “তিনজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। কীভাবে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নড়াইল

দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে কাজ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে কাজ বন্ধ

দুই দপ্তরের ঠেলাধাক্কায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এটি পাউবো ও এলজিইডির মধ্যে মতবিরোধের কারণে ঘটেছে। আট গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা খেয়াঘাট থেকে টেপারি গ্রাম অভিমুখী এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক পাকা করার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে পাউবো ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মধ্যে মতবিরোধের কারণে।

সোমবার (৫ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিবারের সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমেছে, কাদা তৈরি হয়েছে আর কিছু জায়গায় খোয়া উঠে গেছে। ফলে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গ্রামীণ এই সড়কটির মাধ্যমে চলাচল করতে এলাকার মানুষ জুতা হাতে হাঁটছিল, কেউ মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিল আবার কেউ বাইসাইকেল কাঁধে নিয়ে চলছিল। সড়কটির কাজের জন্য দুই পাশে ইটের খোয়া স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা খেয়াঘাট থেকে টেপারি সড়কটির পাকা করণের জন্য দুই কোটি ৯২ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফকির এন্টারপ্রাইজ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কাজটি শুরু হয়, কিন্তু পাউবোর বাধার কারণে এটি অর্ধেক অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি করছে যে, এলজিইডির অনুমোদন নিয়ে তারা কাজ শুরু করে। কিন্তু মাঝপথে পাউবো জানায়, ওয়াপদার আওতায় থাকা ওই সড়কে কাজ করতে গেলে তাদের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) নিতে হবে। বিষয়টি জানার পর এলজিইডি দ্রুত এনওসি চেয়েছিল। তবে সেই সময়ের মধ্যেই পাউবোর আওতাধীন একই সড়কে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। ফলে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সংস্থাকে কাজ করতে দেবে না পাউবো।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় বর্ষা মৌসুমে চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এতে আট গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পানতিতা গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত সিকদার জানান, বর্ষাকালে কাদার ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে জুতা খুলে হাতে নিয়ে চলতে হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রতিদিনের কাজেও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সড়কটি পাকা করার কাজ শুরু হলে আমরা আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তার পাশে কাটা মাটি স্তূপ করে রাখায় চলাচল আরো কঠিন হয়ে উঠেছে এবং সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের।

এদিকে, নির্মীয়মান সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তা মারামারিতে পাল্টে যায়। এ ঘটনার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় কয়েকজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করে। অন্যদিকে, মামলার আসামিরা ওই সড়কের জমি নিজেদের দাবি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

পানতিতা গ্রামের বাসিন্দা দীপক রায় বলেন, দীর্ঘদিনের কাঁচা রাস্তা পাকা করার দাবিতে আমরা ক্ষিপ্ত। দুই দপ্তরের টানাটানিতে কাজ বন্ধ থাকায় আমরা হতাশ। পাউবো রাস্তার কাজে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা করেছেন। এ ঘটনায় পাউবো ও স্থানীয়দের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।

এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফকির এন্টারপ্রাইজ দাবি করছে যে, নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা এলজিইডি থেকে অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করি, কিন্তু পরে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাউবো। কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ধার-দেনা করে কেনা মালামাল রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। দুই দপ্তরের টানাহেঁচড়ায় আমরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

এ ব্যাপারে নড়াইল এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর জানান, মুলিয়া-পানতিতা সড়কে পাউবোর একটি বাঁধ রয়েছে। বাঁধের ওপর কাজ করতে হলে তাদের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হয়। এটি নেওয়া হয়নি। এরপর ঠিকাদার সেখানে কাজ শুরু করলে, পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ করার কথা জানান। তখন থেকে কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, ওয়াপদার এই সড়কে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প চলমান। সেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কাউকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের হামলার নিন্দা করল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


ইরানের হামলার নিন্দা করল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঘটনার জন্য নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা।

এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পৃথক একটি বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং কানাডা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

আমিরাতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের প্রতিরক্ষায় আমরা সমর্থন অব্যাহত রাখব।”

ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানিয়ে স্টারমার বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা জরুরি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ লিখেছেন, “আরব আমিরাত ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ভূখণ্ড রক্ষায় ফ্রান্স সব সময় পাশে থাকবে।”

বর্তমান সংকট সমাধানের জন্য মাখোঁ দু’টি শর্ত উল্লেখ করেছেন। এক. “হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা।” দুই. “আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি টেকসই চুক্তি করা।”

ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মাখোঁ।

আমিরাতে ইরানের হামলার ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে লেখেন, “আমরা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং আমিরাতের জনগণের পাশে আছি।” তিনি বলেন, “বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষায় তাঁদের প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।” কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো এবং উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিযে দেশটি পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ইরান।

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরাজয়ের পরও পদত্যাগ করেননি-কেন তিনি প্রথা ভাঙলেন মমতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তরজাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


পরাজয়ের পরও পদত্যাগ করেননি-কেন তিনি প্রথা ভাঙলেন মমতা?

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলের ঝড় বইছে। সত্তরের্ধ্ব তুখোড় রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মসনদে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম দুর্গের পতন ঘটানোর পর মমতার এবার যাবার পালা।

রীতি অনুযায়ী পদত্যাগ করতে হবে। ফল ঘোষণার পর তিনি পদত্যাগ করেননি। এ কারণে প্রশ্ন উঠছে— কেন প্রথা ভাঙলেন তিনি? পদত্যাগ না করার আড়ালের অন্য কৌশলে তিনি যাচ্ছেন কি না এ নিয়ে চলছে জল্পনা।

নিশ্চিত পরাজয়েও পদত্যাগ অনিশ্চিত। এবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু দল নয়, নিজ কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও পরাজিত হয়েছেন মমতা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে সরকার কার্যত পতনের মুখে—এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগ দেওয়ার কথা। অথচ ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরও এখনও সেই পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

বরং ভোটগণনার দিনই তিনি ছুটে যান গণনাকেন্দ্রে। ভোট কারচুপির অভিযোগও তুলছেন। তাঁর দাবি—“১০০ আসন চুরি করা হয়েছে”, বিজেপির জয় “অনৈতিক”। এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সাথে পদত্যাগের বিষয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজির রয়েছে ফল ঘোষণার পর পরাজয় বরণ করলে একটি নিয়ম মানতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। এই নিয়ম হলো—ফলাফলের তথ্য নিশ্চিত হলেই রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই প্রশস্ত হয় নতুন সরকার গঠনের পথ। প্রয়োজন হলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্বে থাকেন।

টিভিনাইন বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার দিনেই পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেটাই ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক সৌজন্য ও রীতি।

আইনি লড়াইয়ে যাবেন মমতা? এই প্রেক্ষাপটে মমতা পরাজিত হলেও পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তার এই নীরবতা প্রশ্ন তুলছে— এটি কি বিলম্ব, নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক অবস্থান? এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন - এমন ধারণাও করা হচ্ছে। ভোট কারচুপির অভিযোগ সামনে এনে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এটি পরাজয় মেনে নেওয়ার অনীহা নাকি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার কৌশলগত পদক্ষেপ- এমন ধারণাও রয়েছে বিশ্লেষকদের। এখন নজর রাজভবনের দিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো রাজ্যপালের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে তার আগে যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা না দেন, তাহলে কী হবে?

হিন্দুস্থান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সংবিধান অনুযায়ী সরাসরি পদক্ষেপ সীমিত হলেও, পরিস্থিতি জটিল হলে রাজভবন বিকল্প পথ খুঁজতে পারে। ইতিমধ্যে এই নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছে বলেই অভিযোগ।

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে বিজেপির ভোট তৃণমূলকে স্পষ্ট ব্যবধানে ছাপিয়ে গেছে। ফলে উত্তরবঙ্গে কার্যত নিশ্চিহ্ন তৃণমূল, দক্ষিণবঙ্গেও ভাঙন চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, পুরো রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করবে। আজ বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক ও সম্ভাব্য সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন রয়েছে। সেখানেই পদত্যাগের উত্তর পাওয়া যাবে—নাকি নতুন রাজনৈতিক রূপরেখার দেখা মিলবে, সেটি শুধু সময়ের অপেক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫৮
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩২
মাগরিব ০৬:৩০
ইশা ০৭:৪৭
সূর্যোদয় : ০৫:২০ সূর্যাস্ত : ০৬:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%