প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার নাম করে একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে তিন নারীকে বেঁধে ডাকাতির একটি ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুণ্ঠন করা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কামরাঙ্গীরচর থানা।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হচ্ছেন ভুক্তভোগীদের একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন, যার অন্য নাম জেসমিন (৩৭)। ডাকাতির পর, সন্দেহ এড়ানোর জন্য তিনি ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। এমনকি তিনি ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষীও হয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন ১০ তলা এক ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে তিন নারীর হাত-পা বেঁধে তারা মারধর করে। এরপর তারা প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর তদন্তে নেমে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়, এর সঙ্গে উদ্ধার হয় ১ লাখ টাকা।
এরপর রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা ও লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এর ফলে তিনি জানতেন ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা রয়েছে। এরপর সে ডাকাতির পরিকল্পনা করে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে। ঘটনার দিন তিনি ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশে সহযোগিতা করেন এবং পরে নিরাপদে বের হতে সাহায্য করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, একই ভবনে অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত ছিল। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন