প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে।
আজ সকালে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার আবাসিক রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বঙ্গভবনে তাঁর পরিচয়পত্র পেশের সময় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
পরে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, 'দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। বিশ্বের খ্যাতনামা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, হুন্দাইসহ প্রায় শতাধিক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে।'
তিনি বলেন, 'একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমানে দেশে অত্যন্ত অনুকূল ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে।'
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য-প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক এবং অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর জন্য নতুন রাষ্ট্রদূতকে উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রদানের প্রশংসা করেন এবং এ জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ দেন।
তিনি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও অন্তত আরো চার বছর এ সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি এ সময় দুই দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের বিষয়ে সার্বিক অগ্রগতিতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কোরিয়া-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশটির ঋণ সহায়তা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে যাচ্ছে।
তিনি বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গভীরভাবে আগ্রহী।
তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সাংস্কৃতিক, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নতুন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে রাষ্ট্রদূত বঙ্গভবনে পৌঁছলে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন