প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ৭০ অনুচ্ছেদ। বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই এই অনুচ্ছেদ নিয়ে নানান ধরনের তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনা চলে আসছে। শেষ পর্যন্ত জুলাই সনদে এই অনুচ্ছেদের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, যখন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হওয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তখন তিনি যদি দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন অথবা ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন, তবে সংসদে তার আসন শূন্য হয়ে যাবে। তবে, এতে করে পরবর্তী নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
অর্থাৎ, সংসদ সদস্যরা যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের প্রস্তাবিত যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত অকপটে মেনে নিতে তাদের বাধ্য করে এই ৭০ অনুচ্ছেদ। যদি কেউ এর ব্যত্যয় ঘটান বা না মেনে চলেন, তাহলে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়। তাদের আসন শূন্য হয়ে যায়।
এদিকে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। ইতোমধ্যে জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। জোটের নেতারা মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নির্বাচনে জামায়াত জোটের এই প্রার্থীর পরাজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।
তাহলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে আলোচনায় আনার জন্য জামায়াত জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। অন্যরা এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখছেন।
জামায়াতসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন শ্রদ্ধেয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন এবং তিনবার মন্ত্রীও ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও তাকে সম্মান করেন। যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ভোট দিতে পারতেন—তাহলে তখনেই তার পরাজয় নিশ্চিতভাবে বলা যেতো না।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত। সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে কিনা—সাংবাদিকদের suchর আলোচনা শিক্ষা করায় জানান। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, তাই এটি কার্যকর থাকবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থী গণভোট দেওয়ার অনুমতি আছে কিনা—এ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে নূরুল ইসলাম মণি জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন