প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি জানান, আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জনবল নিয়োগ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানালেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ১০টি বাড়িয়ে মোট ২০টিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রোগীর স্বজনদের থাকার উপযোগী ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অ্যানেসথেশিয়ার ওষুধের সংকট দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথাও তিনি বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরেও এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতালের পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের এলাকা আলোকসজ্জা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধ কমানো যায়। জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।
জনবল সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে হাসপাতালের আউটসোর্সিং জনবল খুবই কম। স্থানীয় ব্যক্তিদের এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতায় অতিরিক্ত ৫০ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে রোগীদের সেবা আরও সহজ হবে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে। তাঁরা বলেন, সকল কর্মচারীর জন্য নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক হবে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট নিরসনে সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্মাণাধীন অবকাঠামো রয়েছে, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। এর সমাধানে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মন্ত্রী জানান, রমেক ক্যাম্পাসে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের সময়মতো দায়িত্ব পালন এবং রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণের নির্দেশনাও তিনি দেন।
লাশ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নির্ধারিত ভাড়ায় সেবা দেওয়া হবে এবং চালানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হবে।
মন্ত্রী জানান, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন ১৫ তলাবিশিষ্ট ৪৬০ শয্যার ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ বিশেষায়িত ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অকেজো চিকিৎসা সরঞ্জাম নিলামের মাধ্যমে অপসারণের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
সভায় বিভাগের কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে, মন্ত্রী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন এবং পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন