প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্পেন ১৬ বছরের অপেক্ষার পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর ট্রফির সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবল দলের একটি ভিন্নধর্মী উদযাপনও আলোচনায় এসেছে। ম্যাচ শেষে গোলপোস্টের জাল কেটে তার একটি অংশ স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করতে দেখা যায় দলের কয়েকজন ফুটবলারকে।
ফাইনালটি নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। শেষ বাঁশি বাজার পর পরই দাভিদ রায়া, মিকেল ওইয়ারজাবালসহ কয়েকজন খেলোয়াড় গোলপোস্টে উঠে জালের অংশ কেটে নিজেদের কাছে রেখে দেন।
এই উদযাপনকে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে একটি ‘বার্তা’ বা ‘খোঁচা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে, এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটি একটি ক্রীড়া ঐতিহ্যের অংশ বলেই জানা যায়।
গোলের জাল কেটে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের এই রীতি মূলত ফুটবলের নয়, বাস্কেটবলের। যুক্তরাষ্ট্রে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে চ্যাম্পিয়ন দলগুলো শিরোপা জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে বাস্কেটের জাল কেটে সংগ্রহ করত। ১৯৪৭ সালে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেটের কোচ এভারেট কেস সাউদার্ন কনফারেন্স টুর্নামেন্ট জয়ের পর খেলোয়াড়দের কাঁধে উঠে বাস্কেটের জালের একটি অংশ কেটে নেওয়ার মাধ্যমে এই উদযাপনকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন বড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের জাল কেটে উদযাপন একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্পেনের ফুটবলাররাও সেই ঐতিহ্যকে বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে নিয়ে এসেছেন।
বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি আজীবন ধরে রাখতেই এই ব্যতিক্রমী উদযাপন করেছেন স্প্যানিশ ফুটবল দলের সদস্যরা। ফলে সামাজিক মাধ্যমে যতই নানা জল্পনা ছড়াক, এটিকে আর্জেন্টিনাকে উদ্দেশ্য করে করা কোনো খোঁচা মনে করছেন না; বরং ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের একটি স্মারক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন