প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাজিল, বিশ্বমঞ্চে যাদের নামের ভারিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কেঁপে ওঠে। কাগজের কলমে এবং শক্তিমত্তায় সেলেসাওরা যোজন যোজন এগিয়ে, এ বিষয়ে নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেনের দ্বিধা নেই।
যদিও বিশ্বফুটবলের এই পরাশক্তিকে সমীহ করলেও তিনি ভয়ের কোনো প্রভাব মাথায় ধারণ করতে নারাজ।
নরওয়ে কোচ সোলবাকেনের বিশ্বাস, ফুটবল সব সময় চিরন্তন হিসাব মেনে চলে না। আর যদি তারা নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দেন, তাহলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার একটি রূপকথা লিখতে পারে তার দল।
নিউজার্সিতে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে চলেছে ভাইকিংরা।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে যখন তিনি প্রতিপক্ষকে ফেবারিট হিসেবে অভিহিত করেছেন, তখনও নরওয়ে কোচ এক বুক আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল এখনো ফেবারিট। তবে তারা হয়তো আগের মতো সেই একচ্ছত্র ফেবারিট আর নয়। সম্ভাবনাকে শতকরা হিসাবে মাপা কঠিন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ব্রাজিলকে হারাতে পারি। তবে সেটা করতে হলে মাঠে আমাদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে। ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের অবশ্যই আছে।’
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে তারা দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং এবারই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে মুখোমুখি হচ্ছে। সোলবাকেন মনে করেন, কার্লো আনচেলত্তির আক্রমণভাগের ‘ত্রাস’ সামলানোই হবে তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয়ার্ধের খেলার স্ট্র্যাটেজি মাথায় রেখে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইনের তিন খেলোয়াড় ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশন তৈরি করবে, এবং আমাদের সেটি সামলাতে সক্ষম হতে হবে।
তারা চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়ে, যেমন জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিল, আমরা তাদের সেই গতির সঙ্গে কতটা তাল মিলিয়ে চলতে পারি, সেটিই এখন দেখার বিষয়।’
ইতিহাস ঘাঁটলে একটি মজার তথ্য পাওয়া যায়—বিশ্বকাপ বা আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে ব্রাজিল কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি! আজ যদি নরওয়ে শেষ হাসি হাসতে পারে, তবে এটি কি হবে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন? নরওয়েজিয়ান কোচ উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটি হলে বড় একটি চমকই হবে।’
মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের দ্বন্দ্বের উপর। তবে ব্যক্তিগত লড়াই ছাপিয়ে দলগত রসায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সোলবাকেন। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণজুটি অন্যতম শক্তিশালী। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিয়োস দুজনই বিশ্বমানের ডিফেন্ডার। তবে এটি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল বনাম নরওয়ে ম্যাচ। নিঃসন্দেহে মাঠে কিছু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব জমবে, কিন্তু দিনশেষে এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের লড়াই।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন