প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজাউল বারীকে বদলি করা হয়েছে সরকার দ্বারা। তাঁকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. রেজাউল বারী। দায়িত্বকালীন সময়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়োগ-পদায়ন, ভবনের নকশা বা প্ল্যান অনুমোদন এবং কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধ বিজেপ্র বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ।
বিসিসির একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সিইও রেজাউল বারীর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাঁর দায়িত্বকালে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন, ভবনের প্ল্যান অনুমোদন এবং কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদন, নিয়োগ ও পদায়নের বিভিন্ন কার্যক্রমে করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সিইওকে সহযোগিতা করতেন। এসব কার্যক্রমকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে কুয়াকাটায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য জমি কেনার উদ্যোগের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন। পরে আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের জনগণের অর্থ ব্যয় করে বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এ প্রকল্পসহ ভবনের প্ল্যান অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে বদলির বিষয়ে মো. রেজাউল বারী জানালেন, তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বদলির আদেশ পেয়েছেন। প্রশাসক তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন। তবে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প এবং ভবনের পরিকল্পনা অনুমোদন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন—এমন একটি খবর তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে রেজাউল বারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রেজাউল বারীর বদলির পর কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদন, নিয়োগ-পদায়নসহ তাঁর দায়িত্বকালীন বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন