প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রক্তস্নাত ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করতে জাতীয় সংসদই রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আজও রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করছেন। আমাদের সবার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে আনাসহ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করা।
জহির উদ্দিন স্বপন সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সাজানো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে এক আলোচনায় এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়েছে, সে যুদ্ধের ৫৫ বছর পরেও যখন ভোটাধিকারের জন্য মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়, তখন এটি আমাদের অর্জন এবং লজ্জার বিষয়। তবে, বহু ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদ পরিচালনা করছে।
জহির উদ্দিন স্বপন সংসদকে রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু বানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এত রক্ত ও বিসর্জনের পর অর্জিত গণতন্ত্র এবং সংসদই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রে থাকতে হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক যে শহীদদের স্মরণ করতে এসেও আমরা দেখছি, আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা না নিয়ে কৃত্রিমভাবে রাজনীতিকে রাজপথে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।
মন্ত্রী দাবি করেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদের রক্ত মিশে আছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমান সরকার নির্বাচিত সংসদ থেকে জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগের মর্যাদা অর্জন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজপথে আমরা যেভাবে সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, সেটি বর্তমানে ক্ষমতাসীন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর, মন্ত্রীর এবং সংসদ সদস্যদের জীবন বাজি রেখে সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। শহীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন