প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন যে, তিনি ছিলেন বহুমুখী গুনের অধিকারী এবং জেন্টলম্যান ফর এক্সিলেন্স (শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক)।
আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের প্রধান এটি উল্লেখ করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এই স্মরণ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তাঁর দুটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রথমটি হলো- আইন পেশার প্রতি তাঁর অসীম ডেডিকেশন (নিবেদন)।
দ্বিতীয়টি হলো- কমিটমেন্ট টু দ্য কেস (মামলার প্রতি দায়বদ্ধতা), যা বর্তমানে অধিকাংশ আইনজীবীর মধ্যে বর্তমানে দেখা যায় যে, এই দুটি বৈশিষ্ট্যেরই অভাব রয়েছে।
আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন যে, ‘বিচারপ্রার্থীরা আল্লাহর পর আইনজীবীদের ওপরই তাদের ভরসা রাখেন। তাই মামলার ফল যাই হোক, মামলাটি সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা আইনজীবীদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
জমির উদ্দিন সরকারের রাজনৈতিক অবদান যিনি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন, তিনি হলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, যিনি বলেন, ‘তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন প্রজ্ঞা ও চিন্তাধারার অধিকারী।
এক এগারো সরকারের সময়ে তিনি তাঁর সাহসিকতা দেখিয়েছেন। তাঁর আচরণ অন্য ৮-১০ জন রাজনীতিকের মতো ছিল না। রাজনীতির প্রতিটি ধাপে তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন যে, ‘আইনঙ্গনের সকলের একজন ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার। তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে আইনজীবী সমিতি বা বার কাউন্সিলের নির্বাচন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কোর্টে যে আগুমেন্ট করতেন, তা এখন আইনের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর পেশাগত নৈতিকতা সকল আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।’
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন যখন স্মৃতিচারণ করতে আসেন, তখন তিনি বলেন, ‘তিনি আইনজীবীদের জন্য অনুকরণীয়। কখনো কোনো এজলাসে উত্তেজিত হতেন না। কোর্ট যদি কোনো আদেশ দিত, তবে মাথা পেতে নিতেন। বর্তমানে অনেক আইনজীবীদের মধ্যে এসব বিষয়ে শূন্যতা রয়েছে।
স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী এবং জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার জমিরসহ অন্যান্য বহু ব্যক্তি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন