প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের দুজন অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে ১৫ জুলাই, বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায়।
এই ম্যাচের উভয় দলের জন্য অনেক অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এক নজরে দেখা নেওয়া যাক।
২০ বছর পর
এটি কেবল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্স। এর আগে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎটি হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি আসরে।
শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে স্পেনকে দাভিদ ভিয়ার গোলে এগিয়ে দেয়। প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান ফ্রাঙ্ক রিবেরি। ৮২ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ১-১। পরবর্তী ১০ মিনিটে স্পেনের জালে বল পাঠান পাত্রিক ভিয়েরা ও জিনেদিন জিদান। এইভাবে ৩-১ গোলের জয় তুলে নেয় ফরাসিরা।
দাপুটে স্পেন
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুটি দল। যেখানে স্পেনের জয় ১৮টিতে, ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
সবশেষ ১০ সাক্ষাতের মধ্যে স্পেন মাত্র দুটিতে হেরেছে (সাত জয়, এক ড্র) এবং তাদের সবশেষ দুটো ম্যাচই ছিল জয়ী। আর এই দুটি ম্যাচ ছিল সেমি-ফাইনাল।
২০২৪ ইউরোর সেমি-ফাইনালে নবম মিনিটে রন্দাল কোলো মুয়ানির গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। তবে ২১ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর গোলে, শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। পরবর্তী সময়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
আর ২০২৫ সালের জুনে উয়েফা নেশন্স লিগের শেষ চারের ম্যাচে ৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। ওই ম্যাচে দুটি গোল করেছিলেন ইয়ামাল।
কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফ্রান্সের বিষয়ে ইয়ামাল বলেন, “দুটি সম্ভাবনা আছে: হয় তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছাবে, অথবা আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। জানি না কী হতে পারে, তবে আমরা মোটেও ভীত নই।”
অপরাজেয় যাত্রা
স্পেন তাদের সবশেষ ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত আছে (২৭ জয়, ৯ ড্র)। গত বছর মার্চে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে তাদের শেষ পরাজয় হয়েছিল।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে স্পেনের চেয়ে টানা আরও বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার নজির শুধুমাত্র ইতালির। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সেই চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত ছিল, যারা গত তিনটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
দুর্বার পথচলা
২০১৮ বিশ্বকাপের শুরু থেকে স্পেন বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তাদের ২৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে পরাজিত হয়েছে (১৬ জয়, ১০ ড্র)। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলে পরাজয়ের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তারা ১৪ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে, যেখানে তারা মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোন ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি (৯টি ক্লিন শিট)।
রক্ষণ যেন চীনের প্রাচীর
চলতি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে আটকে রাখতে স্পেনের ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। শেষ আটে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ে শার্লে ডে কেটলারের গোলে আসরে তাদের হজম করা একমাত্র গোলটি ছিল। এর ফলে বিশ্বকাপে তাদের ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড যাত্রা থেমে যায়।
স্পেনই প্রথম দল, যারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে। ডে কেটলারের গোলের আগে সবশেষ স্পেনের জালে বল পাঠিয়েছিল জাপান, ২০২২ আসরে গ্রুপ পর্বে।
সেমি-ফাইনাল ভাগ্য
এটি হলো দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠার সুযোগ স্পেনের। এর আগে তাদের এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল ২০১০ সালে এবং সেই বছরেই তারা তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।
বাড়তি টুর্নামেন্টে মোট সাতটি সেমি-ফাইনাল খেলে তারা একবারই বিদায় নিয়েছে। ২০২০ ইউরোতে ইতালির বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর, পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ গোলে পরাজিত হয় স্প্যানিশরা।
সেরা সুপার সাব
বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে, যখন ম্যাচ ১-১ গোলে ছিল, ৮৬তম মিনিটে মিকেল মেরিনোকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরেই তিনি কার্যকরী গোলটি করেন।
আগের রাউন্ডে, শেষ ষোলোতেও তিনি একইভাবে প্রভাব ফেলেছিলেন। ৮৫তম মিনিটে বদলি নেমে, ৯১তম মিনিটে তার একমাত্র গোলেই পর্তুগালকে বিদায় করে দেয় স্পেন।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে বদলি হিসেবে নকআউট পর্বের বিভিন্ন দুই ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হচ্ছেন মেরিনো। চলতি আসরে তার এই দুটি গোল এসেছে এত সব মাত্র চারটি শট থেকে।
চলতি আসরে টানা তিন ম্যাচে বদলি নেমে গোল করতে পেরেছেন কেবল বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু।
ইতিহাসের হাতছানি যত
ফ্রান্সকে হারাতে পারলে, প্রথম ইউরোপিয়ান দেশ হিসেবে বড় টুর্নামেন্টে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বে স্পেন। সেক্ষেত্রে ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ পর্যন্ত ইতালির এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত নিজেদের টানা সাতটি নকআউট ম্যাচ জয়কে ছাড়িয়ে যাবে তারা।
কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপে তারা টানা ছয়টি জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। স্পেনকে হারাতে পারলে, দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বে তারা। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ আসরে এই কৃতিত্ব ইতালি পেয়েছিল।
জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) কীর্তির পুনরাবৃত্তি করে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে ফ্রান্সের সামনে।
এবং গোলমেশিন এমবাপে
আরেকটি দারুণ বিশ্বকাপ কাটাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। তিনি শেষ আটে মরক্কোর বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল করে দলকে পথ দেখান। আট গোল করে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফ্রান্স অধিনায়ক।
২০ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। একটি গোল বেশি নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন মেসি।
তবে নকআউট পর্বে এমবাপে ১২ গোলের রেকর্ড, যা কোনও খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। শেষ বত্রিশ (২), শেষ ষোলো (৫), কোয়ার্টার-ফাইনাল (১) এবং ফাইনালে (৪) গোল করলেও, আগের দুটি সেমি-ফাইনালে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন