প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালে অটোরিকশা চালক নাজমুল মোল্লা (২৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার একজনের বসতবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে। র্যাব মিরাজ হোসেন শুভ নামক একজনকে গ্রেফতার করে। এর পর বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে বিক্ষুদ্ধ জনগণ মিরাজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ কারণে টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং ছাইতে পরিণত হয়। বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়ায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, হরিণাফুলিয়া গ্রামে হত্যার শিকার নাজমুল মোল্লা এবং সন্দেহজনক অভিযুক্ত তিন সহোদর রিয়াজ-মিরাজ ও ইমরানদের বাড়ির দূরত্ব প্রায় কোয়াটার কিলোমিটার। গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে বাড়ির অদূরে কালিজিরা নদীতে নাজমুলের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর থেকেই স্থানীয়রা সন্দেহজনক খুনি হিসাবে রিয়াজ ও মিরাজদের বাড়ির দিকে নজর রাখতে শুরু করে।
মঙ্গলবার রাতে মিরাজকে গ্রেফতার করে র্যাব- ৮। এরপর বুধবার সকাল ৯টার দিকে শতাধিক জনতা মিরাজ ও রিয়াজদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে একপর্যায়ে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তাদের মা ফরিদা বেগম ও রিয়াজের স্ত্রী কারুন্নাহার (৩২) পালানোর চেষ্টা করলেও জনতাদের দ্বারা আটক হয়ে পরে পুলিশের সোপর্দ হন।
নিহত নাজমুলের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা অন্তরঙ্গভাবে জানান, মিরাজদের বাড়িতে ঢুকতে একটি বাঁশের সাকো রয়েছে। গ্রামের লোকজন সাকোর হাতলে রক্তের দাগ দেখতে পেয়েছে। বাড়ির মধ্যে ঢুকে নাজমুলকে হত্যার নানা আলামত দেখতে পায়। ফলে গ্রামবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে আগুন দেয়।
হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন জানান, নাজমুলকে হত্যার ঘটনায় তার পিতা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে হত্যাকারী হিসাবে একই এলাকার তিন সহোদর মিরাজ, রিয়াজ ও ইমরানকে সন্দেহ করা হচ্ছিল। এলাকার লোকজন তাদের নজরদারিতে রেখেছিল। বুধবার সকালে তাদের বাড়িতে আগুন দিলে বাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ভস্মিভূত হয়ে যায়।
বিল্লাল জানান, মিরাজকে র্যাব ও সাইফুল ইসলাম, ফরিদা বেগম ও কামরুন্নাহার নামক ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের সকলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নাজমুল মোল্লা গত শনিবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায়। সোমবার সকালে বাড়ির অদূরে কালিজিরা নদীতে বস্তাবন্দী তার মরদেহ উদ্ধার হয়। ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশার ছিনতাইয়ের জন্য তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন