প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণে বগুড়া ও নাটোরের দুটি কলেজের ১৮ শিক্ষার্থী প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। তবে তারা বিশেষ ব্যবস্থায় শনিবারের বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই), রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবে।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ তাদের রেজিস্ট্রেশন করা হবে। সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কলেজ থেকে হয়ে আসে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়। মূল কাজটি কলেজে সম্পন্ন হয়। কিছু অসাধু মানুষের জন্য হতে পারে সেটা হয়নি। তবে আজ তাদের রেজিস্ট্রেশন হবে এবং তারা আগামীকাল (শনিবার) পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হবেন।
বগুড়া ও নাটোরের এইসব পরীক্ষার্থী এইচএসসির জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের কাছে টাকা জমা দিয়ে। তবে তাদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি হল, ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং শিক্ষাবোর্ডে জমা না দেওয়ার কারণে তাদের প্রবেশপত্র আসেনি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার প্রথমদিনের অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষাবোর্ডে মোট ২ হাজার ৪৯৭ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
এটি শতাংশের হিসেবে ২ দশমিক ২১ শতাংশ।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে যে, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের আওতায় বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হল, কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন তাদের ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা করেছেন।
অন্যদিকে, নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারেননি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার ফরম পূরণের টাকা নিয়েও তা বোর্ডে জমা না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাননি। এই ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেন, অনলাইনে ফরম পূরণে সমস্যা হবার কারণে আমি অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ৩ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন। পরীক্ষার আগের দিন থেকে তার ফোন বন্ধ এবং তিনি কলেজেও আসছেন না। পরে জানতে পারি, আমার ফরম পূরণ করা হয়নি।
একইভাবে সাত শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে হলেন- সবুজ আহম্মেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল, শিমুল, শাওন, সাব্বির এবং তানভির হোসেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূচির বাবা ইমামুল হক বলেন, একজন মানুষের অবহেলা ও প্রতারণার কারণে আমার মেয়ের উচ্চশিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হলো। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এই সম্পর্কে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অধ্যক্ষ জানান, টাকা প্রদান করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করেনি।
বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের কাছে প্রবেশপত্র চাইলে সে বারবার বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। এ বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো সমাধান করেনি।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, বুধবার বিকেলে প্রথমবারের মতো এই বিষয়টি তার নজরে আসে। কলেজে ফরম পূরণসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এ জন্য পৃথক কমিটি রয়েছে। কোনো কর্মচারীর হাতে নগদ টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগের বিষয়ে শাওনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন