প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের ৬৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির রুটিন সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে এই মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয়েছে। এর আগে এই সাধারণ মানুষ বিইআরসির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল।
শুক্রবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘বিইআরসি একটি জুডিশিয়াল অথরিটি বা আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান। তারা সুনির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে তাদের রুটিন কাজ হিসেবে এই মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে সরকারের সংকল্প ছিল প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করা। ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে বিত্তবান গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়লেও নিম্নআয়ের ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ এর আওতামুক্ত থাকবে।’
ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিত, পরিমাণ এবং ধরণ তুলে ধরেন। এসময় ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতরের উপ প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দেশগুলো বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিগত ২০ বছর ধরে যদি আমাদের দেশের মাটির নিচে আবিষ্কৃত এবং চিহ্নিত নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উত্তোলনের জন্য সঠিক নীতিমালা থাকত, তবে আজ আমাদের এতটা আমদানি নির্ভর হতে হতো না। পূর্ববর্তী নীতিমালার ভুলের কারণে আজ বৈশ্বিক সংকটে আমরা এতটা আঘাতপ্রাপ্ত এবং সংকুচিত হয়ে পড়েছি। বর্তমানে আমাদের আন্তর্জাতিক বাজারের বৈশ্বিক মানদণ্ড এবং বাধ্যবাধকতা মেনে মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে, তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত এক থেকে দেড় দশক ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের চক্র তৈরি হয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর চক্র থেকে পুরো খাতকে বের করে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বর্তমান সরকারের স্পিরিট বা সংকল্প অত্যন্ত পরিষ্কার।’
তিনি জানান, সরকার একদিকে যেমন জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তেমনি বর্তমানের তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে।
কালী টাকার অপরাধের বোঝা বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে এখনও ৪১ হাজার কোটি টাকার বিশাল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অথচ দেশের খেলাপি ঋণ, মানি লন্ডারিং এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বিশাল আকারের দিকে তাকালে এই ৪১ হাজার কোটি টাকা কিছুই নয়। যারা এ অপরাধগুলো করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার মালিক হয়েছেন, বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, মূলত তাদের সেই অপরাধের বোঝা আজকের সংকটময় ব্যবস্থাপনাকে বহন করতে হচ্ছে।
কোনো আনুষ্ঠানিক বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ছাড়া জনগণের স্বার্থে সরকার, গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময়ের স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণকে জানাতে চায়, আবার জনগণও জানতে চায়। সুস্থ গণমাধ্যম সংযোগকারী হিসেবে উভয়কেই সেবা দেবে। আমরা তথ্য প্রবাহের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে চাচ্ছি, যেখানে যেকোনো জরুরি বিষয়ে আমরা নিয়মিত আপনাদের সঙ্গে বসব এবং পরামর্শ নেব।’
জনগণকে সচেতন রাখার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিটি কাজের জবাবদিহিতা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে প্রতিনিয়ত পৌঁছে দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন