প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল বিশ্বকাপকে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বলা হয়ে থাকে। বিশ্বকাপের সময়, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কাজকর্ম ফেলে ফুটবলে বুঁদ হয়ে যায়।
সরাসরি স্টেডিয়ামে গিয়ে কিংবা টিভির পর্দায় বিশ্বের প্রতিটি কোণায় মানুষ ফুটবল উন্মাদনায় মেতে ওঠে। গত প্রায় দেড়মাস ধরে মানুষের মনোযোগ কাজে নেই। সবাই ব্যস্ত মেসি, এমবাপ্পে, লামিন, রোনালদো, নেইমারদের নিয়ে।
ফিফার হিসেবে, তাদের সবচেয়ে লাভজনক ইভেন্ট হচ্ছে বিশ্বকাপ। টিভি পর্দাগুলোও বিজ্ঞাপনে ভরপুর থাকে। তবে ফুটবল দেখতে ব্যস্ত মানুষগুলোর কাজের ফাঁকে উৎপাদনশীলতায় একটি বড় ঘাটতি দেখা দেয়।
প্রায় দেড়মাসের ফুটবল উৎসব এখন শেষ হতে চলেছে। আগামীকাল নিউজাসির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা আর স্পেনের ফাইনালের মাধ্যমে এবারের আয়োজনের পর্দা নামবে।
যৌথ আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো ও কানাডার নাম থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হিউম্যান রিসোর্স সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ইউকেজি'-র একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এবারের বিশ্বকাপের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতার বিবেচনায় প্রায় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। বিশ্বব্যাপী উৎপাদনশীলতায় এই ক্ষতির পরিমাণ ১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের সময় প্রিয় দলের খেলার দিন বিপুলসংখ্যক কর্মী খেলা দেখার জন্য কাজ ফাঁকি দিয়ে আগেভাগে চলে যান। খেলার পর দিন তারা দেরিতে অফিসে আসেন অথবা পুরোপুরি কাজ ফাঁকি দেওয়ার পরিকল্পনা করে। এই পরিস্থিতি উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলেছে।
কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম 'এনভয়'-এর তথ্য অনুযায়ী, বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর দিন ৭ জুলাই, মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি ২৬ ভাগ কমে গিয়েছিল। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান ফুটবলের ফাইনাল সুপার বোলের পরদিন (সাধারণত সোমবার) অনুপস্থিতির হার বেশি থাকে। তবে ৭ জুলাইয়ের অনুপস্থিতির হার সুপার বোলের পরের দিনের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ছিল।
৭ জুলাই শুধুমাত্র অনুপস্থিতি নয়; ক্লায়েন্ট মিটিং, ইন্টারভিউ এবং ভেন্ডর অ্যাপয়েন্টমেন্টের মতো ভিজিটর এন্ট্রিও ৩২ ভাগ কমে গিয়েছিল। এই হার সুপার বোলের পরের দিনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এনভয় এই চিত্রকে 'নকআউট মঙ্গলবার' নাম দিয়েছে। যে দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছিল, সেদিন এবং তার পরদিনের অনুপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি ছিল। আয়োজক দেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর, বিশ্বকাপ আরও রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছালেও, যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। সেখানে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় কোনো ইভেন্টের কারণে কর্মীদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। অলিম্পিক গেমস বা ২০২৩ সালে 'বার্বি' ও 'ওপেনহাইমার' সিনেমার মুক্তির সময়ও অফিসে উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। কিছু কোম্পানি উৎপাদনশীলতার ওপর বিশ্বকাপের এই নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের খেলা চলাকালীন দিনগুলোতে যানজট এবং যাতায়াতের বিলম্ব এড়াতে এসঅ্যান্ডপি, জেপিমরগান চেস অ্যান্ড কোং, গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের আয়োজক শহরগুলোর নিয়োগকর্তারা কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার কারণে ফুটবলের প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহও কমে গেছে। এমনকি আগামীকালের উচ্চমানের ফাইনাল নিয়েও বিশেষ উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এনভয় পূর্বাভাস দিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচের পরদিন কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি সামান্য কমতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করেছে যে, এই অনুপস্থিতির হার 'নকআউট মঙ্গলবার'-এর তুলনায় অনেক কম হতে পারে; 'সুপার বোল'-এর পরের দিনের কাছাকাছি হতে পারে। তাদের অনুমান, ফাইনালের পরদিন অন্যান্য সোমবারের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি ১ দশমিক ৮৭ ভাগ কম হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন