ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নিহত ১০


পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নিহত ১০

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের একাধিক শহরে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এই হামলায় কথিত ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ ও নিরাপত্তা সদস্যসহ ৪ জন নিহত হয়েছে, এ সম্পর্কে জানা গিয়েছে।

বেলুচিস্তান প্রদেশের সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। যাতে উল্লেখিত ১০ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্য এবং আরো ৪ জন কথিত ‘রাজনৈতিক এজেন্ট’ নিহত হন।

বেলুচিস্তান প্রদেশের খারান, ওয়াশুক, আভারান, কেচ ও মাস্তুং জেলায় এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে?

বার্তা সংস্থা এএনআইর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংস্থাটির মুখপাত্র মেজর গওহরাম বেলুচ জানিয়েছেন, এসব অভিযানে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের চেকপোস্ট, সামরিক ক্যাম্প, সামরিক বহর এবং সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের ‘ডেথ স্কোয়াড এজেন্ট’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় এজেন্ট’ বলা হয়।

বিএলএফ দাবি করেছে, খারান শহরের গাজি রোডে একটি ফ্রন্টিয়ার কর্পস চেকপোস্টে রকেট ও গ্রেনেড লঞ্চার দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার এই ঘটনাই হতাহতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ওয়াশুকের নাগ-গ্রারি এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালানো হয়। এতে দুজন ‘সশস্ত্র এজেন্ট’ নিহত হয়, এবং গোষ্ঠীটি জানিয়েছে সেখান থেকে অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

আভারানের তিরতিজ এলাকায় একটি প্রধান সামরিক ক্যাম্পে স্নাইপার হামলা এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণের কথা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই এলাকায় একটি সামরিক বহর ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ওপর হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে নিহত ৬ হাজার ছাড়াল

তবে এসব দাবির সম্পর্কে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা সরকারি কোনো সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোরেলগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এমপি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


মোরেলগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এমপি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম

মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বাদশারহাটে মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে বাজারের একাধিক দোকান ও বিশাল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আকস্মিক আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চোখে এখন দেখা যাচ্ছে কেবল হতাশার ছাপ। তাঁদের মধ্যে কেউ বহু বছরের সঞ্চয় হারিয়েছেন, আবার কেউ জীবনের দীর্ঘ পরিশ্রমে গড়ে তোলা স্বপ্ন এক নিমিষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোররাতের গভীর নীরবতায় হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রথমে একটি দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অন্যান্য দোকানগুলোতে। দাহ্য পদার্থ ও ঘনবসতিপূর্ণ বাজারের কারণে আগুন দ্রুতই ভয়াবহ রূপ নেবে। আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁতে শুরু করে, আর অসহায় ব্যবসায়ীরা দূর থেকে নিজেদের স্বপ্ন পুড়ে যেতে দেখেন।

খবর পায় স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুনটি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাজারের বেশ কিছু দোকান সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং কয়েকটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এখনো সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সকালেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের দুঃখ ও কষ্ট মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে সরকার রয়েছে। খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে তারা সম্পূর্ণরূপে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, সহায়তা না পেলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বাজারে যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

বাদশারহাটের এই অগ্নিকাণ্ড শুধুমাত্র কয়েকটি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নয়—এটি বহু মানুষের স্বপ্নভঙ্গের করুণ চিত্র, যা নতুন করে ভাবিয়েছে বাজার নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা ঘুরে গেলেন প্রফেসর জোনাথন ব্রাউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


ঢাকা ঘুরে গেলেন প্রফেসর জোনাথন ব্রাউন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সফর করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্কলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর জোনাথন এসি ব্রাউন। তিনি বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিএমআরআই)-এর আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের জন্য এ সফর করেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের আলেম-ওলামা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তরুণ গবেষকদের সঙ্গে সভা-সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেন। আজ মঙ্গলবার বিএমআরআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে প্রফেসর জোনাথন ব্রাউনের বর্ণবাদ ও দাসপ্রথা বিষয়ক মৌলিক গবেষণা প্রশংসিত হয়েছে। মুসলিম বিশ্বে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ইমাম বুখারীর হাদিস সংকলনের ওপর তাঁর কালজয়ী কাজ ‘দ্য ক্যানোনাইজেশন অব আল-বুখারি অ্যান্ড মুসলিম’-এর জন্য। ‘দ্য অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম অ্যান্ড ল’-এর প্রধান সম্পাদক হিসাবে প্রফেসর জোনাথন দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবে হাদিস, ইতিহাস ও সিরাত বিষয়ে গবেষণার জন্য সৌদি আরব, মিশর, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। এবার সেই তালিকার সঙ্গে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

সফরের প্রথম দিন, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে তিনি এক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। ওই দিন বিকেলেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন।

দ্বিতীয় দিন, গত ১ মে (শুক্রবার), জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি মসজিদের খতিব ও দেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ মাওলানা আব্দুল মালেকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে দুই প্রান্তের দুই হাদিস বিশেষজ্ঞের মধ্যে ঘণ্টাখানেক হাদিস শাস্ত্র ও আরব বিশ্বের হাদিস বিশারদদের নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে দুইজন নিজেদের লেখা গ্রন্থও আদান-প্রদান করেন। এরপর, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ ও রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করে তরুণ আলেমদের উদ্দেশে তিনি লেকচার প্রদান করেন।

পরবর্তী শনিবার (২ মে) সকালে, বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইউকের আয়োজনে রাজধানীতে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে তরুণ চিন্তক ও গবেষকদের নিয়ে তিনি একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। এই ওয়ার্কশপে তিনি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইসলামী ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা, ইসলামি শরীয়া ও আইন নিয়ে তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

একই দিন বিকেলে, একই হোটেলে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক ও আলেম উলামাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজের ধারা ও প্রবণতা নিয়ে তিনি মতবিনিময় করেন। এই সময় আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর কো-ফাউন্ডার ড. কামরুল হাসান এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইসলামী গবেষক শেখ ফয়জুল ইসলাম। ড. কামরুল ঢাকা শহরকে সাউথ এশিয়ার অন্যতম ইসলামিক ইন্টেলেকচুয়াল হাব করার আশা ব্যক্ত করেন। শেখ ফয়জুল ইসলাম বাংলাদেশের ইসলামি জ্ঞানের আদান প্রদান এবং জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গোষ্ঠী চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সফরের শেষ দিনের সকালে, রবিবার (৩ মে), জোনাথন ব্রাউন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে তেরো শতকের প্রখ্যাত পণ্ডিত শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। দুপুরে তিনি বাংলা একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এই সফরে সরাসরি প্রায় এক হাজার চিন্তক ও গবেষক তাঁর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে দেশটির তরুণ চিন্তক ও গবেষকরা প্রফেসর জোনাথন ব্রাউনের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা চত্বরের সেই অভিশাপেই হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে: শিবির সভাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


শাপলা চত্বরের সেই অভিশাপেই হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে: শিবির সভাপতি

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম মন্তব্য করেছেন যে, শাপলা চত্বরের ওই হত্যাযজ্ঞের অভিশাপের কারণেই শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে আলো নিভিয়ে যে নৃশংসতা ঘটানো হয়েছিল, সেটিই বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ ছিল।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের পরবর্তী সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন। খেলাফত আন্দোলন ও ছাত্রশিবির এসব কর্মসূচির আয়োজন করেছিল।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন যে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য ও আলেম-ওলামা শূন্য করার জন্য একটি নীলনকশা তৈরি করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন গভীর রাতে আলো নিভিয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। এরপর ২৩৯টি বেওয়ারিশ লাশ গুম করা হয়েছিল। নিরপরাধ আলেমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে জেলখানায় নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।’

তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘আওয়ামী লীগের নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ছাত্রলীগের লোকদের দিয়ে বিচারের নামে অবিচার করা হয়েছিল।

একই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেছেন, “শাপলা হত্যাকাণ্ডের সময় আপনারা (বিএনপি) রাজপথে নামেননি। বেগম জিয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলনে যোগ দেননি। তখন আপনারা সুপ্ত থেকেও যোগ দেননি, আর এখন আমাদের ‘গুপ্ত’ বলে ডাকেন!”

তিনি যোগ করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে মূলত ‘গণভোট’ হয়ে গেছে। গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে লড়াই চলবে।

খেলাফত আন্দোলনের নেতা মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেছেন, সেদিন রাত আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে অতর্কিত হামলা শুরু হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ সরিয়ে গরম পানি দিয়ে রাস্তা ধুয়ে রক্ত মুছে ফেলা হয়েছিল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘাতকদের যদি কোথাও পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে দেশে আরেকটি বিপ্লব ঘটবে।

শিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ দেলওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের তালিকা ও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে জুলাই মাসের মধ্যে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। এই সমাবেশে খেলাফত আন্দোলন ও শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকে ইসলামি দলগুলো ৫ মে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য ৭ লাখ ৮৩ হাজার পশু প্রস্তুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য ৭ লাখ ৮৩ হাজার পশু প্রস্তুত

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে কোরবানির জন্য চট্টগ্রাম নগর ও উপজেলাগুলোতে সাত লাখ ৮৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যদিও চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজারের বেশি পশুর ঘাটতি রয়েছে, কিন্তু আশাপাশের উপজেলা ও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে সরবরাহকৃত পশু এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে প্রাণিসম্পদ বিভাগ মনে করছে। তবে, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিকের মুজরি বৃদ্ধির কারণে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে এবারের কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানাচ্ছে, এবারের ঈদুলআজহায় চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা ও নগরীর পাঁচলাইশ, কোতোয়ালী, ডবলমুরিং এলাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এবং অন্যান্য কোরবানিযোগ্য পশু হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। ফলে চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজার ৫২০টি পশুর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, গত কোরবানির ঈদের দিন পশুর চাহিদা ছিলো ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। এই হিসেবে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় এবারের কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৭ হাজারের বেশি কমেছে। তবে, চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদনও গতবারের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। যেসব পশু মজুদ রয়েছে, তা চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য যথেষ্ট। আর ঘাটতি পূরণ করতে তিন পার্বত্য জেলা এবং কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের জেলাগুলো থেকে পশু আসবে। তাই শেষ পর্যন্ত পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা আছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা চলতি বছর ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সেই তুলনায় কোরবানি পশুর সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। তাই দেখা যাচ্ছে যে, চলতি বছরে দেশে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরও ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি পশুর চাহিদা ধরা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকার তথ্য জানানো হয়েছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ কর্তৃক।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারে চট্টগ্রাম জেলায় ষাঁড়, বলদ, গাভি, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে সর্বাধিক ৬৯,৪৭৮টি পশুর মজুদ রয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। অন্যদিকে মিরসরাইয়ে ৬০,৩৪০, স›দ্বীপে ৬২,৩১০, সীতকুণ্ডে ৪৩,৮২০, হাটহাজারীতে ৫৪,৭৫৬, রাউজানে ৪৩,৬০৮, রাঙ্গুনিয়ায় ৪৬,৫৬১, বোয়ালখালীতে ৩১,১৬২, পটিয়ায় ৫৯,৭৩৫, চন্দনাইশে ৩৮,৫৫৯, সাতকানিয়ায় ৫২,৯৯৮, লোহাগাড়ায় ৩৭,২৯১, বাঁশখালীতে ৬০,৩৮৯, আনোয়ারায় ৪০,৯৮০ এবং কর্ণফুলীতে ৩২,৪৪৩টি পশুর মজুদ রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব এলাকার প্রত্যেকটিতেই চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত আছে।

অন্যদিকে নগরীর পাঁচলাইশে ২৫,৫৯৮, কোতোয়ালীতে ৭,৪৭২ ও ডবলমুরিংয়ে ১৬,৬৬০টি পশুর মজুদ রয়েছে। তবে, এই তিনটি এলাকায় পশুপালনের পরিমাণ কম এবং ঘনবসতির কারণে পাঁচলাইশ এলাকায় ৩০,১৫২, কোতোয়ালীতে ৩১,১৫৮ ও ডবলমুরিং এলাকায় ৪৭,০২০টি পশুর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য আশপাশের উপজেলা ও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে পশু আনার ওপর নির্ভর করতে হবে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিকে একাধিক খামারিদের সাথে কথা বলা হলে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে পশুখাদ্যের উগ্রমূল্যের কারণে পশুপালনের খরচ বেড়ে গেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়তি খরচ বেড়েছে। শ্রমিকদের বেতনও আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে পশুপালনে বাড়তি খরচ হওয়ায় পশুর দামে প্রভাব পড়তে পারে।

মিরসরাইয়ের তারেক এগ্রোফার্মের সত্বাধিকারী মো. তারেক বলেন, গরু পালনের খরচ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। খাদ্যের দাম, চিকিৎসা খরচ, ওষুধের দাম, শ্রমিকের মজুরি, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং পরিবহন ভাড়াসহ সব মিলিয়ে খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যেহেতু তদারকিরও কেউ নেই, ফলে দাম বাড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%