প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তীব্র গরমের কারণে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির জন্য, অধিক পরিমাণে মিষ্টি ফল খেলে শরীর ভারি বা অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে, আম খাওয়ার পর শরীর গরম হয়ে যাওয়া—এই ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া, হজমের সমস্যা ও গরমের প্রভাব মিলে এই অনুভূতি সৃষ্টি করে।
বছরের মাত্র দুটি মাসে পাকা আম পাওয়া যায়। তাই স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন না হয়ে অনেকেই আমের প্রতি ঝুঁকছেন। কিন্তু অতিরিক্ত আম খাওয়া যে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা অনেকের অভ্যাসের কারণে আমাদের নজর এড়িয়ে যায়।
বৈশাখের শুরুতেই পাকা আম বাজারে এসেছে। বিভিন্ন জাতের আম ইতিমধ্যেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভালো মানের হিমসাগরও আসবে, তখন আমের লোভ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। জৈষ্ঠ্য মাস আসার সাথে সাথে বাজারে পাকা ল্যাঙড়া, গোলাপখাস, আম্রপালি উঠতে শুরু করেছে। কিছু ব্যক্তি বিনা চিন্তায় আগেই আম খেতে শুরু করেছেন। তবে, এই গরমে আম খাওয়া শরীরের তাপ বৃদ্ধি করতে পারে—এটি কি আপনি জানেন?
আপনি যদি সুস্থতার কোনো ভাবনা না করে আম খান, তা হলে সুগারের বিষয়টি ভাবছেন না। কিন্তু বেশি আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, আপনার করণীয় কী হবে?
আমে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা ও ম্যাঞ্জিফেরিন রয়েছে। এগুলো মেটাবলিজমের প্রক্রিয়ায় শরীরে তাপ উৎপন্ন করে, যা থার্মোজেনেসিস নামে পরিচিত। এই কারণে, আম খাওয়ার পর কিছুটা ভারি ও গরম অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে, সীমিত পরিমাণ আম খেলে এ ধরনের সমস্যা হয় না।
এছাড়া, আম খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি আমও ক্ষতিকর হতে পারে। আমের গ্লাইসেমিক সূচক বেশি থাকার কারণে, অধিক আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
আমে শর্করা ছাড়াও ক্যালোরির পরিমাণও অত্যধিক। একটি মাঝারি সাইজের আমে 120-150 ক্যালোরি থাকে। অতএব, বেশি আম খেলে ওজন বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
আমে ফাইবারের পরিমাণও যথেষ্ট বেশি। যখন শরীরে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তখন পেট খারাপ, গ্যাস, ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা কিছু লোক আম-আমাশয় বলেও অভিহিত করেন।
সীমিত পরিমাণে আম খাওয়া ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে বেশি খেলে, শরীরে সুগার লেভেল বাড়তে পারে এবং বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন ব্রণ, ফুস্কুড়ি, র্যাশ। একজন সুস্থ ব্যক্তি দিনে একটি মাঝারি সাইজের আম খেতে পারেন। বেশী হলে দুটোও খেতে পারবেন। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে অর্ধেক আম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কখনও কখনও, একটি গোটা আম খেলেও সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে সকালবেলা আম খাওয়া ভালো। এতে বিপাকের জন্য বড় পরিমাণ সময় পাওয়া যায়। শরীরে আমে থাকা চিনি ভাঙতে সাহায্য করে। তবে রাতে খাবারের পর আম খাওয়া উচিত নয়। এতে বিশ্রামের সময় শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় হজমের জন্য, ফলে শরীরে ক্যালোরি জমে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন