প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে অবশিষ্ট সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এটি ২০০৩ সালে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটাবে, যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান ছিল।
বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে এক বৈঠকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক জোটের আইসিসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সমাপ্তির নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত তারিখ। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই সেনাবহরের প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের বেশিরভাগ প্রধান ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে, তবে উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে কিছু সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছিল। দুইজন কুর্দি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এরবিল ঘাঁটি থেকে মার্কিন কর্মী ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ২০০৭ সালে বিদ্রোহ দমন অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরাকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। পরবর্তীতে, ২০১১ সালে প্রথম দফায় সব যুদ্ধরত সেনা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে আইএসআইএস-এর উত্থানের কারণে ইরাক সরকারের আমন্ত্রণে আবার মার্কিন বাহিনী ফিরে আসে। ২০২১ সালে আইএসআইএস পরাজিত হলে যুদ্ধ অভিযান শেষ করে ২৫০০ সেনা প্রশিক্ষণ ও সন্ত্রাসবিরোধী সহায়তার জন্য সেখানে রেখে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের দিকে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ সেই মিশন পুরোপুরি গুটিয়ে নিতে একমত হয়েছে।
বিদেশি সেনার প্রস্থান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি, ইরাক সরকার দেশের ভেতরের সশস্ত্র অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছেন।
তিনি বলেছেন, বিদেশি সেনা চলে গেলে দেশে আলাদা অস্ত্র হাতে রাখা সশস্ত্র গোষ্ঠীদের আর কোনো যৌক্তিকতা থাকে না।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের কিছু শক্তিশালী ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী ইতিমধ্যে অস্ত্র ত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে মার্কিন সেনামুক্ত ইরাকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন