প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউইয়র্কে প্রতিযোগিতামূলক জীবনব্যবস্থা আর নিজের কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থেকে ২৭ বছর বয়সে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মহুয়া খান। একই সাথে তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও সফল। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের কুইন্সে হয়েছে। তার আয়ের ক্ষেত্র মোট ৯টি। ২০২৫ সালে তিনি প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে কর ও অন্যান্য খরচ বাদে তার নিট আয় ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার।
মহুয়া খান বর্তমানে অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ৩ হাজার ডলার ভাড়ায় এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন। এখান থেকেই তিনি নিজের সব কাজ পরিচালনা করছেন।
নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা সম্পর্কে মহুয়া জানান, এখানকার জীবন এক ধরনের দ্বিধারি তলোয়ারের মতো; চারপাশে সবাইকে একাধিক চাকরি এবং প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে দেখে এটিকেই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম বলে মনে হয়।
অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন মহুয়া। তার বাবা সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১৬ ঘণ্টা নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালিয়েছেন। অন্যদিকে, তার মা সব সময় বলতেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। মূলত অভাব ও মায়ের উপদেশ থেকেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি কাজ শুরু করেন। এ সময় নিজের বেতনের জমানো টাকা ও ঋণ দিয়ে পড়াশোনার খরচ পরিচালনা করেছেন তিনি। একই সাথে বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আফটার-স্কুল কাউন্সিলর হিসেবেও পার্ট-টাইম কাজ করেছেন এই অদম্য তরুণী।
মহামারির সময় ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে নিজের আঁকাআঁকির ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে দর্শক সংখ্যা বাড়তে থাকলে তিনি ইউটিউব ও স্কিলশেয়ার থেকে ক্লাস করে দক্ষতা আরও বাড়ান। এরপর কনটেন্ট তৈরিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ‘ল্যাবিরিন্থঅ্যাভ’ (Labyrinthave) নামে একটি নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন, যেখানে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যের ছাপ আছে।
শুরুর দিকের কাজ নিয়ে মহুয়া জানান, তখন তিনি এক ধরনের মোহের মধ্যে ছিলেন এবং কারও সাহায্য ছাড়া একা সব করতে চেয়েছিলেন। কাজের চাপে তার নিজের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু ছিল না, যা তাকে চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা জমানো টাকা ছাড়া হঠাৎ চাকরি ছেড়ে নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করাটা কতটা ভীতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অন্যদের সতর্ক করেছেন।
বর্তমানে পাঁচ বছর পর এসে মহুয়া আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও ঋণমুক্ত। তিনি তার আয়ের একটি অংশ দিয়ে বাবা-মায়ের বাড়ির মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণ পরিশোধে সাহায্য করে থাকেন। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ফোন বিল, অ্যাপার্টমেন্টের ইউটিলিটি বিল এবং মাসিক বাজারের খরচও তিনি সুচারুভাবে বহন করেন। তার কাছে একটি গাড়ি থাকলেও তা মায়ের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাবা-মায়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং নিজে সাবওয়েতে যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বর্তমানে তিনি কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে একটি চমৎকার ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে নিজেকে প্রমাণের জন্য আর আগের মতো অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় না।
জীবনযাত্রা এতটা ব্যয়বহুল হওয়ার পরেও নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই মহুয়ার; বরং তিনি এই শহরেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন