প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের কোষাগারে প্রায় ২৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দেয়ার পরও মাসের পর মাস বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। ইসলামপুর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের মেসার্স সওদাগর অটো রাইস মিল-এর ৮০০ কিলোওয়াট শিল্প সংযোগের কাজ সম্পন্ন হওয়ার জন্য সকল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ফাইল অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় কাজটি থমকে রয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিল্প উদ্যোক্তা জানান, ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় লাইন নির্মাণের জন্য সমিতির দেওয়া চাহিদা অনুযায়ী দুটি ধাপে ৮ লাখ ৫০ হাজার ৮১৬ টাকা এবং ১০ লাখ ১৯ হাজার ৭৭৪ টাকা, মোট ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৯০ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মোট ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৯০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে ইসলামপুর জোনাল অফিস প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রাক্কলন সম্পন্ন করে প্রকল্পের স্টেকিং শিট জামালপুর সদর দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএনসি) শাখায় পাঠিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সরকারি টেন্ডারে কাজটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ২১ জুন অনুষ্ঠিত টেন্ডারে রহস্যজনকভাবে এ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে বর্তমানে কোনো ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি এবং মাঠপর্যায়ে লাইন নির্মাণের কাজও শুরু হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি একাধিকবার জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইএনসি) শেখ ফরিদ এবং মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, "ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে।" অন্যদিকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইএনসি) শেখ ফরিদ বলেন, "কাজটির অনুমোদন এখনও সম্পন্ন হয়নি। অনুমোদন হওয়ার পর ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। এর জন্য আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।" দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে জিএম ঠিকাদারের গাফিলতির কথা বলছেন, অন্যদিকে ইএনসি কর্মকর্তা বলছেন, এখনো ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, "বিদ্যুৎ সংযোগের আশায় সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। ব্যাংক ঋণ নিয়ে আমি কারখানা নির্মাণ করেছি। কিন্তু সংযোগ না পাওয়ায় আমি উৎপাদন শুরু করতে পারছি না। ঋণের সুদ বাড়ছে, লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও আমি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাচ্ছি না।" স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগে অযৌক্তিক বিলম্ব স্থানীয় শিল্পায়নের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে লাইন নির্মাণের কাজ শুরু এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন