প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের জন্য মো. হানিফ শেখ (৫১) নামের একজন কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে, তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং যদি জরিমানার টাকা অনাদায়ে পড়ে, সময়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তাই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখ বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। তিনি নিজেকে এলাকায় একটি কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং নিজেদের বাড়িতে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে রোগীদের দেখতেন।
এদিকে, মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ওই কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক করানোর জন্য হানিফ শেখের কাছে নেওয়া হয়। এরপর, চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে পরের দিন ফের তার ঘরে নিয়ে যান হানিফ। সেখানে, চিকিৎসার আড়ালে কিশোরীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলেও গণ্য হয়।
নতুন ঘটনার পর কিশোরী ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে, ২৪ মার্চ তার বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান বোয়ালমারীর ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূধন পান্ডে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে হানিফ শেখকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া মন্তব্য করেন, কবিরাজি চিকিৎসার নাম ব্যবহার করে যৌন নিপীড়ন একটি জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন