প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিজের নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করতে শিক্ষা সচিবের প্রতি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ–মোকামতলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি গত ১ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
ডিও পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহল নিজেদের উদ্যোগে তার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। তবে তিনি এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে অভিহিত করেন।
পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক নামকরণের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের পরিচিতি, স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখাই প্রতিমন্ত্রীর কাছে অধিকতর সমীচীন বলে মনে হচ্ছে।
ডিও পত্রে মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, শিবগঞ্জ–মোকামতলা অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। জমি দান, নিজস্ব অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন এবং সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এলাকার শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার কর্মকাণ্ডে তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন। উল্লেখ করার মতো ১৯৯৭ সাল থেকে তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।
পত্রে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭), বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২০০১), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪), তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২), বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩), বেতগাড়ি মীর মাহাতাব–শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩), মোকামতলা মীর শাহে আলম–ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩), কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩) এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)।
পত্রের শেষাংশে তিনি স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তার অথবা তার পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়। একইসঙ্গে এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের নাম, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণের ব্যাপারেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অবগতির জন্য ও করণীয়ের তথ্য জানাতে চিঠির অনুলিপি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন