প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ৭ লাখ টাকা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা এবং হাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৫-৬ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বোচাগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন দিনাজপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাঈল হোসেন। বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে মামলার বিষয়টি তাদের কাছে এসেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দিনাজপুর জেলা শাখার সাবেক মুখপাত্র এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মোস্তাক (২৭), এনসিপি দিনাজপুর জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব এবং বোচাগঞ্জ উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী এম এ তাফসীর হাসান (৩০), রাফিয়া ইসলাম (২৮), আবুল কালাম আজাদ (২৫), আনজু (২৭), বেলাল হোসেন (২৪), আসিফ (২৩), আরিফুল ইসলাম (২৬), মো. রকি (২৭), কানন (২৮) এবং মো. রাকিব (২৫) সহ আরো ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছেন যে, গত ৭ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে রাফিয়া ইসলাম তাঁর বাড়ির সামনে চিৎকার করে বাসায় প্রবেশ করেন। এরপর তিনি অন্যান্য আসামিদের ডেকে এনে বাড়ির সামনে হৈচৈ ও চিৎকার শুরু করেন। এ সময় তাঁরা অভিযোগ করেন যে ইসমাঈল হোসেন ও রাফিয়া ইসলামের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁরা শারীরিক সম্পর্কের মধ্যে জড়িত—এই অভিযোগ তুলে বিষয়টি সমাধানের জন্য ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। যদি ৭ লাখ টাকা দিতে না পারেন, তাহলে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও তাঁরা চিৎকার করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
বাদীর স্ত্রী যখন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেন, তখন আসামিরা তাঁর ও তাঁর মায়ের সঙ্গে মারমুখী আচরণসহ ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে যে, বাদীর স্ত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন, তখন পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি শোনে। এরপর রাফিয়া ইসলামকে থানায় গিয়ে অভিযোগ করার জন্য বলা হয়।
মামলার বাদী ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘এজাহারে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিই আমার বক্তব্য। এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
অন্যদিকে, মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপি নেতা এম এ তাফসীর হাসান। তিনি জানান, এনসিপি থেকে তাঁকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, এই কারণে একটি মহল তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ মামলা করেছে। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই মামলাটি করার দাবি তাঁর।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়সাল মোস্তাক জানিয়েছেন, বিভিন্ন আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দেখেছেন। ৭ আগস্ট একজনের ফোনের মাধ্যমে ইসমাঈলের বাসায় একজন নারী বিয়ের দাবিতে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন।
ফয়সাল মোস্তাক আরও বলেন, মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে যে টাকা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে হবে। সামনে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনের পরিকল্পনা থাকায় একটি কুচক্রী মহল তাঁর বিরুদ্ধে লেগেছে। সম্মানহানির অভিযোগে তিনি ইসমাঈল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন।
এদিকে, ফয়সাল মোস্তাকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে হয়রানিমূলক এবং মিথ্যা মামলা হিসেবে বিবেচনা করে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাবিপ্রবি শাখা।
সংগঠনটির হাবিপ্রবি শাখার মুখপাত্র আহসান মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো সমাজকর্মী বা ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সৃষ্টি করা হলে তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের ঘটনা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
বোচাগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইসমাঈল হোসেনের এজাহারের ভিত্তিতে ফয়সাল মোস্তাক, তাফসীর, রাফিয়া সহ ১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি এখন তদন্তাধীন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন