প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এবং নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার তার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দিল্লিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও আটকের মতো নাটকীয় ঘটনা ঘটার পর, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসহ একাধিক দাবিও জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। বুধবারও তিনি পার্লামেন্টে এ ইস্যুতে সরব থাকার ঘোষণা দেন।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, মোদি সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
এর আগে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময়, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং কংগ্রেসের অন্য নেতাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। এরপর রাত প্রায় ৯টার দিকে দুই ভাইবোনকে মুক্তি দেওয়া হয়।
আটক অবস্থায়, রাহুল গান্ধী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন এবং সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার। সোমবারের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তিনি জানতে চান, কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, কেন শিক্ষার ব্যয় এত বেশি এবং কেন পরিবারগুলো সন্তানদের পড়াতে গিয়েও আর্থিক সংকটে পড়ছে। তিনি বলেন, এসব প্রশ্ন করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং বিরোধী দল চায় লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই এ বিষয়ে আলোচনা হোক।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ধর্নাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী অবস্থান পরিবর্তন করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তার মতে, এটি একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে মানানসই নয় এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান, সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তার দাবি, রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন