প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যোগেশ নেগির ২৪তম জন্মদিন রবিবার উদযাপন করতে গিয়েছিলেন তার দুই বন্ধু রেবেকা জ্যাকব ও আঙ্গাদ গিল। তারা মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে তিতওয়ালায় জন্মদিনের পার্টি আয়োজন করেন।
মুম্বাইয়ের তরুণদের কাছে কালু নদীর তীরে অবস্থিত তিতওয়ালা ছুটি কাটানোর জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। মুম্বাই থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এই পর্যটন গন্তব্যে রয়েছে অনেক বিলাসবহুল ফার্মহাউস, পুল ভিলা এবং রিসোর্ট। তিন বন্ধুই তেমন এক রিসোর্টে গভীর রাত পর্যন্ত জন্মদিনের উৎসব পালন করার পর মুম্বাই ফিরে আসার পথে ছিলেন। যোগেশ এবং আঙ্গাদের বাসা বদলাপুরে, আর রেবেকা থাকতেন বান্দ্রায়।
আঙ্গাদ বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ জেড৪ গাড়ি নিয়ে পার্টি করার জন্য বের হন। নির্মাণাধীন দিল্লী-মুম্বাই হাইওয়ে ধরে ফেরার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আঙ্গাদ নিজেই। রাত তখন তিনটা। ফাঁকা মহাসড়কে হঠাৎ করে গতির নেশায় তারা উন্মাদ হয়ে ওঠেন। ঘটনাটি ঘটে যখন তারা জন্মদিনের আনন্দে ছিল, তখনই মৃত্যু তাদের কাছে উপস্থিত হয়ে গেছে।
এক বন্ধুর তোলা ভিডিওতে দেখা যায় যে, গাড়ির গতি এক পর্যায়ে ২৫১ কিলোমিটারে পৌঁছে যায়। তখনই আঙ্গাদ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। নির্মাণাধীন হাইওয়ের স্টিলের ডিভাইডারের সাথে ধাক্কা মেরে বিএমডব্লিউ জেড৪ আকাশে উড়ে যায়। গাড়িটি বেশ কয়েকবার উল্টে গিয়ে ২০০ মিটার দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। বিলাসবহুল জেড৪টি দৃশ্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই মারা যান যোগেশ ও রেবেকা। মহাসড়কের ৫০০ মিটার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তাদের দেহের অংশ। গুরুতর আহত আঙ্গাদকে মুম্বাইয়ের ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, তিতওয়ালার কোনো একটি রিসোর্ট বা ফার্মহাউসে গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপান ও পার্টি করার পর, তারা নির্মাণাধীন মুম্বাই-দিল্লি হাইওয়েতে গাড়িটির গতি পরীক্ষা করতে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বদলাপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে প্রশ্ন উত্থাপন হচ্ছে তরুণ-তরুণীদের বেপরোয়া পার্টি সংস্কৃতি নিয়েও।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন