প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ এমভি রাশি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ দল। তিন দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে জাহাজটি পরিদর্শন করেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের জানিয়েছিলেন, জাহাজের যে ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে সোমবার তারা প্রবেশ করেননি। মঙ্গলবার সেখানে প্রবেশ করে বিস্তারিত তদন্তের কাজ শুরু করবেন বলেছেন তারা।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত নয় শ্রমিকের একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার সীতাকুণ্ড থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে আমদানি করা জাহাজ এমভি রাশির একটি ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিক প্রাণ হারান।
এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন অসুস্থ হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য দুটি সরকারি এবং একটি বেসরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও, জাহাজের ভেতরে বিষযুক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কা থাকায় তাঁরা প্রথম তিন দিন সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি।
জাহাজটি গ্যাসমুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলের ওপর চাপ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এমন পরিস্থিতিতে, শিল্প মন্ত্রণালয় বুয়েটের রসায়ন বিভাগের একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে।
কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমদ এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এএসএম শফিউল আলম তালুকদার জানিয়েছেন, রবিবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বিশেষজ্ঞ কমিটি পাঠানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির কয়েকটি চেম্বারে গ্যাস থাকার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটিকে গ্যাসের প্রকৃতি, লিকেজের উৎস এবং তা বন্ধের বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। তিন সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার সকালে দায়িত্ব গ্রহণের পর, বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ পরিদর্শন করে। এ সময় অন্যান্য তদন্ত কমিটির কিছু কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিষাক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট ট্যাংকে প্রবেশ করেননি তারা।
মঙ্গলবার ওই ট্যাংকে প্রবেশ করে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক উল্লেখ করেছেন, উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল সহ অন্যান্য তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার একটি রেসকিউ বিশেষজ্ঞ দল জাহাজের ওই ট্যাংকে প্রবেশ করবে। তারা ট্যাংকটি সম্পূর্ণ বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করার পর বরাবরের মতো তদন্ত করবে। জাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা গেলে, তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে।
এদিকে, গত শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পর একজন আবেদনকারী ইয়ার্ডে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন। এতে ইয়ার্ডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
এ অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘যেকোনো দুর্ঘটনার পরে মালিকদের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। নানা মহল পেছনে লেগে যায়। মালিকপক্ষ কি ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে? দুর্ঘটনায় কি মালিকদের লাভ আছে? দেশের কোনো সেক্টরে দুর্ঘটনা ঘটে না? কিন্তু শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটলে যেন একটি তোলপাড় হয়ে যায়। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে।’
সীতাকুণ্ড থানায় নয় শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সোমবার অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, নিহত এক শ্রমিকের পরিবার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। কিন্তু তিনি বাইরে থাকার কারণে বাদীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানাননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন