প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলোচনা সভা ও র্যালি আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং রোহিঙ্গা কমিউনিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যা ক্যাম্পের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভায় কয়েক শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের অতিরিক্ত ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মাজেদ আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং এনজিওকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে উখিয়া এবং টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও র্যালি, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটানোর পরও প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাই মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
এদিকে ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসে নতুন করে সামনে এসেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সংকট, বাংলাদেশে আশ্রিত ১৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা প্রায় ৯ বছর ধরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন, তবুও এখনও কার্যকর প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাদের।
বর্তমানে শরণার্থী শিবিরগুলোতে সীমিত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা নেতারা জানাচ্ছেন, মিয়ানমারে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে তারা নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে চান। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আশ্রয় পেলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্পজীবন কোনো সমাধান নয় বলে তাদের মত।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট স্থানীয় জনগণের ওপরও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের মতে, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর রোহিঙ্গা সংকটের নেতিবাচক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে জনসংখ্যার ভারসাম্য, শ্রমবাজার ও নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক তরুণ রোহিঙ্গাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আরসা, আরএসওসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, টার্গেট কিলিং এবং মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারের কঠোর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ফলে গত কয়েক বছরে ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন