প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত মো. জোবায়ের হোসেন (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনার পরদিন ৩ জুন বৃহস্পতিবার সকালে, আহত যুবক এবং তার স্বজনরা বন্দর থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ তাঁদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পুলিশি অসংবেদনশীল আচরণ এবং ঘটনার চার দিন পার হলেও অপরাধীদের গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়, যার ফলে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে।
রবিবার (৭ জুন) রাতে বন্দর মডেল থানায় এ ঘটনার পরিস্থিতি ঘটে। অবশেষে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপর মামলা নিতে গড়িমসি ও ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের কারণে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নিহত যুবক জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। বর্তমানে তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।
গত ৩ জুন রাতে, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এই সময় জোবায়ের বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং জোবায়েরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুর পরে সন্ধ্যায় মরদেহ বন্দর এলাকায় পৌঁছে স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বন্দর থানা ঘেরাও করে। স্বজনরা অভিযোগ করেন যে, জোবায়েরকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায় তার বাবা বন্দর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি, বরং লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে। অধিকন্তু, মামলা দায়েরের জন্য এসআই মাসুদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেছে।
জোবায়েরের স্বজন টিপু অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর যখন মামলা দায়েরের জন্য থানায় যান, তখন জাহাঙ্গীরের এক好友ের কাছে বন্দর থানার এসআই মাসুদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তখন মামলা নেওয়া হয়নি এবং অভিযুক্তদের আটকও করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, নিহত যুবকের লাশ নিয়ে তার স্বজন ও এলাকাবাসী থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা নানা অভিযোগ করেছেন। পরে তাঁদের বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত করা হয়েছে। মামলা নিতে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি উঠে আসায় এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত হবে। ছুরিকাঘাতে নিহতের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। এ ঘটনার পর একজন যুবককে আটক করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন