প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। এই সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বাতিল করা প্রয়োজন। তাদের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের পূর্বঘোষিত আশ্বাস ও নির্বাচনি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে আমেলার বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এসব কথা বলেন।
এই বৈঠকটি মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা আবুল বাশার, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি নুরুল আলম ইসহাকী, মাওলানা বিন ইয়ামিন, মাওলানা সলীমুল্লাহ খান হানাফী, মুফতি মাহমুদুল হাসান, মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মাওলানা আনোয়ার হামিদী, মুফতি নাসির বিন নুর ও মাওলানা জুবায়ের আহমদ প্রমুখ।
বৈঠকে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বক্তব্য প্রদান করে বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ, দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিশুদের জন্য সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করা দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নেতারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা কারিকুলামে এমন কোনো বিষয় বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়, যা দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হতে পারে। এর পরিবর্তে, তারা প্রাথমিক শিক্ষায় কোরআন শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, চরিত্র গঠন, বিজ্ঞানমনস্কতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, ভাষা দক্ষতা এবং দেশীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ের শিক্ষার্থীদের আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন।
তারা প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করার পরামর্শ দেন। তা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাবিদ, আলেম-উলামা, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বানও করা হয়েছে।
এছাড়াও, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের দেওয়া আশ্বাস ও নির্বাচনী অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করছেন জমিয়তের নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন