প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে একটি সাপের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৯০০টি সাপ পালিয়ে গেছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে, চীনজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস এবং টর্নেডোর ফলে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় যে, বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয়রা বাঁশের লাঠি দিয়ে সাপ ধরার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা উ ঝি জানান, পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই বিষধর নয়। উদ্ধার অভিযান চালাতে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ দল মাছ ধরার জাল ও স্টান গান ব্যবহার করছে। এদিকে গ্রামবাসীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোনো সাপ দেখলে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করেন।
এদিকে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার কারণে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গুয়াংজি অঞ্চলে সোমবার মধ্যরাতে সর্বোচ্চ 'রেড' বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ৫৫টি নদীর ৭০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানির স্তর সতর্কসীমা অতিক্রম করেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। নদী, জলাধার এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আগাম সতর্কতা জোরদারের নির্দেশনাও রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ টাস্কফোর্স, উদ্ধারকর্মী, রাবার বোট এবং স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত, দেশের ৬২টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় রেকর্ড বন্যার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন মারা গেছে। হুবেই প্রদেশে প্রবল বৃষ্টি এবং বিরল টর্নেডোর কারণে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বহু বাড়িঘর, সড়ক এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব, এল নিনোর প্রভাব এবং চলমান বর্ষা মৌসুমের কারণে এই বছর চীনকে আরও কঠিন বন্যা ও চরম আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বড় নদীর পাশাপাশি ছোট নদী, পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকা ও নগরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তথ্য সূত্র- গ্লোবাল টাইমস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন