প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, সমবায় শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার, গ্রামীণ অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পারস্পরিক সংহতির জরুরি প্রতীক। কিন্তু বিগত সরকার সমবায় আন্দোলনকে গলা টিপে হত্যা করেছে।
এমন মন্তব্য তিনি শনিবার ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তরের আলোচনা সভায় করেন। আব্দুস সালাম উল্লেখ করেছেন, সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসে গ্রামীণ জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষি, মৎস্য, দুগ্ধ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সংহতি ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে সমবায় যথেষ্ট অবদান রেখে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সমবায়ের ইতিহাস শত বছরেরও বেশি হলেও এটি যতটা এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ততটা বিশেষত এগোতে পারেনি। এর প্রধান কারণ হলো, সমবায়ের তিন অংশীজন- সমিতির সদস্য, সরকার এবং সমবায় অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ও আন্তরিকতার অভাব।
আব্দুস সালাম জানান, ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সমবায় আইন কার্যকর ছিল, সেটি ২০১৪ সালে বিগত সরকার পরিবর্তন করে সমবায় ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই আইন পরিবর্তনের ফলেই আজ সমবায় আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই তিনি স্বৈরাচারী আমলে প্রণীত আইন পরিবর্তন করে জনমুখী সমবায় আইন প্রণয়নের দাবি জানান।
তিনি বলেন, সমবায়ীদের মূল দাবি হলো, অডিট ফি ও সমবায় উন্নয়ন তহবিল বাবদ ১৩ শতাংশ পরিশোধের পাশাপাশি বিগত সরকারের আরোপ করা অতিরিক্ত ২০ শতাংশ আয়কর বাতিল করা। তার মতে, এই অতিরিক্ত করের কারণে সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সমবায় খাতের উন্নয়নে তিনি চারটি জরুরি পদক্ষেপ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ ও বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা উচিত। আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমবায় পণ্যের বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা এবং সমবায় অধিদপ্তরকে নবীন সমিতিগুলোকে দমন না করে ধাপে ধাপে উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন।
তিনি জানান, সমবায় দেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় প্রধান খাত, যেখানে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ছাড়া সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমবায় খাতে আমূল পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন