প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে ওসি, পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমেদ যাতে তার আগের পদ (ইউপি চেয়ারম্যান) ফিরে পেতে পারেন, সেই কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। তিনি কিছু দিন আগে কারামুক্ত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বৃহত্তম বড়ইউড়ি ইউনিয়নের কালাইনজুড়া গ্রামে সংঘর্ষটি ঘটে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি ফরিদ আহমেদ জুলাই আন্দোলনের সময়কার মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। এ অবস্থায় তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন। কফিল উদ্দিন স্থানীয় যুবদলের রাজনীতিকে সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে আসছেন।
সম্প্রতি ফরিদ আহমেদ কারাগার থেকে বের হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পায়। এক সময় হাইকোর্টের আদেশে ফরিদ আহমেদ তার স্বপদে পুনর্বহাল হন। কিন্তু তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কফিল উদ্দিন ও ফরিদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এদিকে, সোমবার (৮ জুন) সকালে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করেন। এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বাধা দেন। এর ফলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এই সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ৫০ জন আহত হন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ চার পুলিশ সদস্যও আহত হন। থানার সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস শেল ব্যবহার করে।
ওসি শেখ নাজমুল হক জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তিনি এবং চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন