প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ওয়াশিংটনে আলোচনা করার পর ইসরাইল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হওয়ার ঘোষণা আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলার কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিষয়টি জানায়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)’ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সড়কের দিকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রিপোর্ট করতে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপি বৈরুত থেকে এই খবর সম্প্রচার করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায় যে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। একটি ঘটনায় ‘সন্দেহজনক আকাশযান’ শনাক্ত করা হয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আরেকটি ঘটনা পরে ভুয়া সতর্কতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ দফা বৈঠকের পর, প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যে, ইসরাইল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয়েছে। তবে এর জন্য ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ গোলাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে।
আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দুই পক্ষের মধ্যে আরও সম্মতি হয়েছে যে কিছু ‘পাইলট জোন’ গঠন করা হবে। যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সেখানে কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির বৃহস্পতিবার এই চুক্তির সমালোচনা করে একে ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘোষণার আগে বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননের কানতারা এলাকায় অবস্থানরত ইসরাইলি সেনা ও সামরিক যান লক্ষ্য করে ‘রকেটের একটি দফা হামলা’ চালিয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বউফোর্ট দুর্গের কাছে সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোনও পাঠানো হয়েছে।
এর পূর্বে ১৭ এপ্রিল লেবাননের সংঘাত বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে সেটি কখনোই বাস্তবে পালন করা হয়নি। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামলা অব্যাহত রাখার যুক্তি দেখিয়েছে।
লেবাননের দাবি মতে, ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপের পর থেকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মধ্যে যাওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৩,৫০০ এরও অধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরেও লেবাননে ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ কোমাতি এএফপিকে বলেন, তাদের সংগঠন ‘আংশিক যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন