প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সক্রিয় ও রিজার্ভ সেনাসদস্যদের জন্য টেস্টোস্টেরন (পুরুষত্ব হরমোন) ঘাটতির বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং শুরু করা হয়েছে। এই নতুন কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
হেগসেথ এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম পাওয়া যাবে, তাঁরা স্বেচ্ছায় হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) গ্রহণ করতে পারবেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেশি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে টেস্টোস্টেরন ব্যবহার সামরিক বাহিনীতে নিষিদ্ধ থাকবে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, নতুন স্ক্রিনিং কর্মসূচি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে সেনাসদস্যদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডার তৈরি হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে নারীদের সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রেও এই স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ট্যামি ডাকওর্থ নারীদের এবং পুরুষদের উভয় সেনাসদস্যের জন্য সমানভাবে হরমোন পরীক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান এবং সাবেক বিমানবাহিনীর সদস্য ক্রিসি হুলাহান এই উদ্যোগকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সর্বশেষ সংস্কৃতিজনিত যুদ্ধের আসক্তি বলে সমালোচনা করেছেন।
বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের ইউরোলজি অধ্যাপক ড. মোহিত খেরা মন্তব্য করেছেন, ৩০ বছরের বেশি পুরুষদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করা উচিত, কারণ এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাঁর অভিমত, কম টেস্টোস্টেরণের কারণে পেশিশক্তি এবং কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে উপসর্গ না থাকলে শুধুমাত্র পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে টেস্টোস্টেরন থেরাপি দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির মাধ্যমে পেশিশক্তি বৃদ্ধি, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানো, বিষণ্নতার ঝুঁকি হ্রাস এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে। তবে এই চিকিৎসা সবার জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে এটি প্রজননক্ষমতা কমিয়ে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি হৃদরোগের সম্ভাব্য ঝুঁকিও পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রিপশনের বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি সংক্রান্ত কিছু নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে সতর্কবার্তা লেবেল থেকে অপসারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন