প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তিনি যেন নিজের ভাগ্যকেই ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই দিনের প্রচেষ্টায় তিনি ময়লার স্তূপ থেকে আবার ফিরিয়ে আনলেন ভাগ্যকে, যা তাকে মিলিওনিয়ার বানিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ ইতালির বিটোন্তো শহরের ভাগ্যবতী এই মহিলা লটারিতে এক মিলিয়ন ইউরোর (১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা) বাম্পার পুরস্কার জিতেছিলেন।
তবে তিনি দোকানে লটারির টিকিটটি পরীক্ষা করার সময় মেশিন জানায় যে এটি ‘নন-পেইয়নেবল’ (পরিশোধযোগ্য নয়)। জেতেননি মনে করে তিনি ফেরার পথে টিকিটটি ডাস্টবিনে ফেলে দেন। মূলত পুরস্কারের অঙ্ক এত বেশি হওয়ায় এটি স্থানীয় দোকান থেকে সরাসরি দেওয়া সম্ভব ছিল না।
এজন্য দোকানের মেশিন এই ‘নন-পেইয়েবল’ বার্তাটি দেখায়।
দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের একজন সদস্য তাকে জানিয়ে দেন যে, তার নিয়মিত কেটে আসা ২, ৪, ৮, ১০ এবং ৫১ নম্বরগুলো এবারের লটারিতে বাম্পার প্রাইজ জিতেছে। স্মৃতির কারণে ওই নারী সবসময় একই নাম্বারের লটারির টিকিট কিনতেন। সেজন্য তার টিকিটের নাম্বার পরিবারের সকলের জানা।
বাম্পার প্রাইজ জেতার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ওই নারী দ্রুত ছুটে যান সেই দোকানে। কিন্তু গিয়ে জানতে পারেন, তখন পর্যন্ত ময়লার ঝুড়ি খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং আবর্জনা সংগ্রহের গাড়িটি সেটি নিয়ে চলে গেছে।
টিকিটটি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওই মহিলা ও তার পরিবার স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কম্পানির প্রশাসক রবার্তো নিকোলা তোসকানোর কাছে যান।
তোসকানো বলেন, ‘আমরা টিকিটটির যাত্রাপথ ট্র্যাক করার চেষ্টা করি। যদিও আমাদের মনে খুব একটা আশা ছিল না। কারণ ততক্ষণে একটি ময়লার ট্রাক আবর্জনাগুলো নিয়ে চলে গিয়েছিল।’
ভাগ্যক্রমে তোসকানো এবং তার দল সঠিক ট্রাকটি চিহ্নিত করে এবং সেটিকে থামাতে সক্ষম হন। তবে বর্জ্যের মধ্যে বিপজ্জনক উপাদান থাকার ঝুঁকির কারণে, গাড়িটিকে সরাসরি একটি বিশেষজ্ঞ কম্পানির কাছে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে এ ধরনের তল্লাশি চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
কর্মীরা এক দিনেরও বেশি সময় ধরে সেই ময়লার স্তূপ খুঁজে তল্লাশি চালান। একের পর এক বিভিন্ন টিকিট ও রসিদের টুকরোপরীক্ষা করার পর অবশেষে মিলিয়ন ইউরো মূল্যের কাঙ্ক্ষিত টিকিটটি খুঁজে পান।
তোসকানো বলেন, ‘সেগুলোর মধ্যে আমরা যে রসিদটি খুঁজছিলাম তা পাওয়া যায়। আশ্চর্যজনকভাবে সেটি তখনো একদম অক্ষত ছিল।’
টিকিটটি খুঁজে পাওয়ার খবর জানাতে তোসকানো যখন ওই নারীকে ফোন করেন, তখন ‘তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন’।
তোসকানো আরো বলেন, ‘আমি তখন তাকে জড়িয়ে ধরতাম। কিন্তু আমরা আসলে ফোনে কথা বলছিলাম।’
অবশ্য সেই নারীকে এখন ময়লার ট্রাক থামানো ও তল্লাশি অভিযানের সব অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে। তবে সেটাও তিনি নিশ্চয়ই হাসিমুখে করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন