প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৪ সালের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের দুই বর্ষপূর্তিতে রাঙামাটিতে ‘রক্তঝরা জুলাই-আগস্টের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সরব হয়েছেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন, বৈষম্য, মানবাধিকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ এবং প্রশ্ন উঠে এসেছে আলোচনা সভায়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিটি আয়োজন করে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, রাঙামাটি জেলা কমিটি। এর পর আলোচনা হয় শিশু একাডেমি হলরুমে, যেখানে ‘ফিরে দেখা রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট—প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি’ শীর্ষক কথকতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাঙামাটির বিভিন্ন প্রশাসনে এখনো ‘স্বৈরাচারের দোসররা’ গুপ্তভাবে অবস্থান করছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে প্রশাসনের চেয়ার ব্যবহার করে সাবেক সরকারের সহযোগীদের বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।
নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত অপসারণ করে জেলার প্রশাসনকে গণমুখী করতে হবে। পাশাপাশি, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের ছাত্র, শ্রমিক, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচক রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষই ২০২৪ সালের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন গণতন্ত্র রক্ষায়।
কোটা বিরোধী ঐক্য জোটের প্রধান উপদেষ্টা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণক্ষোভ একপর্যায়ে গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, এর ভারতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের প্রতি সবার শ্রদ্ধাবোধ থাকা প্রয়োজন।
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো সাধারণ মানুষ নির্যাতন কিংবা বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান রানা অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে এবং এসবের প্রমাণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের কাছে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহিদা আক্তার বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সু-চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির সাবেক সভাপতি মো. আবুল হাসেম, জেলা বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ারা বেগম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের রাঙামাটি জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক ডা. প্রকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকো চাকমা, জেলা কমিটির সদস্য অরুনজিতা চাকমা, নিখিল চাকমা, উদয়শংকর চাকমা, যুব সংহতির সাইমুন ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মী এবং রাঙামাটি ভূমিহীন সংহতির নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুঁই চাকমা।
এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় নির্মল বড়ুয়া মিলন সম্পাদিত ‘রক্তেভেজা গণ-অভ্যুত্থান : পাহাড়ের বৈষম্য’ বইটি প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্তদের উপহার দেওয়া হয়।
শহীদদের স্মরণে বুধবার বিকেল ৫টায় রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন