প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেসব ক্ষতির মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য তেহরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে।
এ ব্যাপারে একটি সূত্র জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পর, নতুন করে ড্রোন হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এ উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
সূত্র জানিয়েছেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের হামলায় উপসাগরীয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের জন্য একটি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন। যেকোনো ভবিষ্যৎ হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির মেরামতে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি আসছে।
এ তথ্য প্রকাশ পায় একদিন আগে, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে জানান, তিন মাসের যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তির একটি শর্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।
যুক্তরাষ্ট্র কোন ধরনের ইরানি সম্পদ উপসাগরীয় দেশে দেয়ার বিবেচনা করছে, সে সম্পর্কে অর্থ বিভাগ কিছু জানায়নি। তবে ব্যবহৃত ভাষা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি শুধু জব্দ থাকা সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরানের সম্পদ ব্যবহারের এ নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের জটিল যুদ্ধবিরতিকে আরও বেশি জটিল করে দিতে পারে। কারণ সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা ঘটেছে।
ওয়াশিংটন এবং তেহরানের শান্তি আলোচনা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার তেহরানে পৌঁছেছেন।
শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালির গোরুক ও কেশম দ্বীপে ইরানি উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করে, ইরানের ছোড়া কয়েকটি ড্রোন সামুদ্রিক চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করেছিল, যেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। পরে আরও দুটি ইরানি হামলাকারী ড্রোন ধ্বংসের কথা জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এদিকে, জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটায়। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কিছু স্থাপনার ক্ষতি হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই এসব হামলার নিন্দা করেছে।
ইরান দাবি করেছে, তারা উভয় দেশেই মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন